


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে ৩০ এপ্রিল। কারণ, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দ্বারোদঘাটন হতে চলেছে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের। জগন্নাথদেবের প্রাণপ্রতিষ্ঠাও হবে সেদিন। পুজোঅর্চনা এবং বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই মন্দিরের দ্বার সাধারণ মানুষের সামনে উন্মুক্ত হবে। ২২ একর জমির উপর পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে এটি নির্মিত। দ্বারোদ্ঘাটনের পর মন্দিরটি দেখাশোনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে ইসকন কর্তৃপক্ষের হাতে। তবে আগের দিন থেকেই শুরু হয়ে যাবে হোমযজ্ঞ। সেদিনই দীঘায় পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই উপলক্ষ্যে বুধবার বিকেলে নবান্নে অনুষ্ঠিত হয় প্রস্তুতি বৈঠক। ছিলেন একাধিক মন্ত্রী, মুখ্যসচিব, পুরীর রাজেশ দৈতাপতি, ইসকন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিনিধি এবং অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। দ্বারোদঘাটন উপলক্ষ্যে একাধিক সিদ্ধান্তের কথা সেখানেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। যেকোনও রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করতে একগুচ্ছ নির্দেশ দেন তিনি।
দীঘায় সামগ্রিক নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, পুলক রায়, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, সুজিত বসু এবং ইন্দ্রনীল সেনকে। পিএইচই, পিডব্লুডি, তথ্য ও সংস্কৃতি, বিদ্যুৎ, শিল্প, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং পরিবহণ সচিবকেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। থাকবেন গঙ্গাসাগরে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পুলিস অফিসাররা। কলকাতায় নজরদারির দায়িত্ব পেয়েছেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
পদপিষ্টের মতো দুর্ঘটনা এড়াতে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে কুম্ভমেলা থেকে। রেলকে এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে। সিসিটিভির নজরদারিতে রাখা হয়েছে অনুষ্ঠানস্থলের পাশাপাশি হাওড়া-দীঘা পুরো রাস্তাই। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কুম্ভে পথদুর্ঘটনায় বহু পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এখানে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিখুঁত করে তুলতেই হবে।’
মন্দির প্রাঙ্গণে তিনটি এসি হ্যাঙ্গার তৈরি হবে। এক নম্বরে থাকছে মূল পোডিয়াম। সেখানেই হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অংশ নেবেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, অদিতি মুনশি প্রমুখ। বসার ব্যবস্থা হচ্ছে ছ’হাজার জনের। থাকবে জায়ান্ট স্ক্রিনও। পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য গঙ্গাসাগরের আদলে টেন্ট তৈরি হবে দীঘাতেও। শীঘ্রই তার জায়গা চিহ্নিত হবে। যেহেতু ২৮ এপ্রিল থেকেই যাননিয়ন্ত্রণ হবে, প্রবীণদের কথা মাথায় রেখে সেইসময় মন্দির চত্বরে পৌঁছনোর জন্য গ্রিন কারেরও ব্যবস্থা রাখা হবে। পুণ্যার্থীদের জন্য থাকবে স্থায়ী ধ্বজা, পেঁড়া এবং শুকনো গজার স্টল। মন্দিরে প্রত্যেকদিন ধ্বজা তোলার জন্য পুরী থেকে আসছেন অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাও। অন্যদিকে, ২১ এপ্রিল একটি স্টিল কারখানার উদ্বোধন করতে শালবনি যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর।