


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বাবার অধরা স্বপ্ন পূরণ করল ছেলে। তরুণ গড়াইয়ের উদ্যোগে দুবরাজপুর ব্লকের পদুমা পঞ্চায়েতের গাঁড়া গ্রামে খেপাকালী মন্দির নতুনভাবে গড়ে উঠল। এই কাজে সাধ্যমতো তরুণবাবুর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সারা গ্রামের মানুষ। বুধবার সেই মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হয়েছে।তরুণবাবু বলেন, এই শতাব্দীপ্রাচীন মন্দির একসময় বেহাল হয়ে পড়েছিল। আমার বাবা মন্দিরটি নতুনরূপে সাজিয়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আজ বাবা নেই। কিন্তু তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা পূরণ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। গ্রামের মানুষ এই কাজে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেজন্য তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আগামী দিনে স্থানীয় শতাব্দীপ্রাচীন জগন্নাথ মন্দিরটি সংস্কারের ইচ্ছে রয়েছে।
প্রায় ৫০০বছর আগে এই গ্রামে খেপাকালী মন্দির গড়ে উঠেছিল। এই জাগ্রত মন্দিরকে কেন্দ্র করে একাধিক জনশ্রুতি রয়েছে। কথিত আছে, একসময় বাৎসরিক পুজো শেষ হতেই প্রতিমা উধাও হয়ে যেত। সেজন্য পুজো শেষ হতেই নিরঞ্জনের আগের মুহূর্ত অবধি প্রতিমা বেঁধে রাখা হতো। পরবর্তীকালে নিয়মে খানিকটা বদল হয়। এখন অমাবস্যা তিথি শেষ হওয়ার আগেই প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।একসময় এই মন্দিরে পূজার্চনা করতেন ভূতনাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর উত্তরসূরীরা এখন পুজোর দায়িত্ব সামলে চলেছেন। মন্দিরটি একসময় মাটির ছিল। পরে টিনের ছাউনি সহ কংক্রিটের মন্দির গড়ে ওঠে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে ওই মন্দির অনেকদিন ধরে ভগ্নদশায় ছিল। সেজন্য মন্দির সংস্কারের চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন স্থানীয় অতুলচন্দ্র গড়াই। যদিও স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর বাবার স্বপ্নপূরণে উদ্যোগী হন তরুণবাবু। ২০২১সালে তাঁর উদ্যোগে মন্দির গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষ তাঁর এই কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। প্রায় ১১লক্ষ টাকা খরচে নতুনরূপে মন্দিরটি গড়ে তোলা হয়েছে। এদিন মন্দিরের অভিষেক ও প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপিত হয়। প্রায় তিনহাজার ভক্তের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।