


সোমনাথ বসু, কলকাতা: পাঁচ-পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। সেই পাঁচের দশক থেকে সবুজ ঘাসে হলুদ সূর্যমুখী ফোটাতে ব্যস্ত পেলে-গ্যারিঞ্চারা। সেই সোনালি ব্যাটন জিকো-সক্রেটিস-রোমারিও-রোনাল্ডিনহো-রোনাল্ডোর হাত ঘুরে এখন ভিনিসিয়াসদের হাতে। সাম্বার তালে কলকাতা মাতাতে তৈরি কার্লো আনসেলোত্তির ব্রাজিল। আজ সন্ধ্যায় যুবভারতীতে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত। ফুটবল কৌলিন্যে দুই দেশ ডেভিড-গোলিয়াথের মতোই। তা সত্ত্বেও বাঙালির আবেগে বাঁধ দেয় কার সাধ্য?
অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারত সফরে এসেছে ব্রাজিল। দলকে নতুনভাবে তৈরি করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে ইতালিয়ান কোচ কার্লোর। সেই লক্ষ্যেই ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ করে এগতে চাইছেন তিনি। অভিজ্ঞ কোচ জানেন, প্রতিভার প্রাচুর্য এখন ব্রাজিলে নেই। সেই অভাব ঢাকতে হবে পরিশ্রম ও স্ট্র্যাটেজি দিয়ে। তাই প্রতিটি ম্যাচই তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ভারতের কাছে এই ম্যাচ শুধুই প্রাপ্তির। হারানোর কিচ্ছুটি নেই। এই প্রথমবার ভারতীয় ফুটবলাররা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। এখন দেখার, তা মনবীর-সাহালরা কীভাবে কাজে লাগান?
আজ ৪-৫-১ ফর্মেশনে দল সাজিয়ে কোচ খালিদ রক্ষণ সংগঠন মজবুত করতে চাইবেন। সেটাই স্বাভাবিক। পানামার বিরুদ্ধে ভালো খেলে ড্র করলেও ব্রাজিল অন্য লেভেলের। তাই বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে চাইছেন না ব্লু টাইগার্স কোচ। আনসেলোত্তি আবার শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলতে নারাজ। প্রথম ১৫-২০ মিনিট প্রতিপক্ষকে পরখ করে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। শুধু জয় নয়, ফুটবলারদের চোট মুক্ত রাখতে হবে তাঁকে। কারণ, অস্ট্রেলিয়া সফরে রাফিনহা চোট পাওয়ায় বার্সেলোনা সমর্থকরা ইতিমধ্যেই আনসেলোত্তিকে ভিলেন বানিয়েছেন। শুক্রবার বিকালে ব্রাজিলের অনুশীলনে সবথেকে চনমনে ছিলেন ভিনিসিয়াস। সূত্রের খবর, কোচ বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও তিনি সমর্থকদের কথা মাথায় রেখে শুরুতেই খেলতে চেয়েছেন। এদিকে খালিদ বারবার গুরপ্রীতদের বোঝাচ্ছেন, এই ম্যাচে জীবন বাজি রাখাই তাঁদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
শনিবার সকাল থেকেই রোয়াক, চায়ের দোকান, সেলুনে আলোচনায় থাকবে ব্রাজিল। ২০০২’এর পর বিশ্বসেরা হতে না পারলেও এই শহর সাম্বা ম্যাজিকে আচ্ছন্ন। ফুটবলের মানে আকাশ-পাতাল পার্থক্য থাকলেও আবেগে রিও-পোর্তে অ্যালেগ্রে-ব্রাসিলিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে ভারতীয় ফুটবলের মক্কা। সাও পাওলো-বেলো হরাইজেন্তের ফুটবল পাগলদের মতো আমরাও এই চামড়ার গোলকে আচ্ছন্ন।