


মুম্বই: বিশ্বজুড়ে যে ভূ-রাজনৈতিক ডামাডোল শুরু হয়েছে, তার মোকাবিলায় কৌশলগত সহযোগী হতে চলেছে ভারত ও ফ্রান্স। মঙ্গলবার এমনই দাবি করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনদিনের ভারত সফরে এসেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ। সোমবার মধ্যরাতে মুম্বইয়ে পৌঁছন সস্ত্রীক ফরাসি রাষ্ট্রপতি। এদিন মোদির সঙ্গে বৈঠকও করেন। সেখানে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও খনিজ সম্পদের মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিন মুম্বইয়ে মোদি এবং ম্যাক্রঁর বৈঠকে প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রিটিকাল মিনারেলের মতো বিভিন্ন বিষয়ে ২১টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এছাড়া কর্ণাটকের ভেমাগালে এয়ারবাস সংস্থার হেলিকপ্টার তৈরির জন্য অ্যাসেম্বলি লাইনের ভার্চুয়াল উদ্বোধনও করেন দুই নেতা। ভারত ইলেকট্রনিকস ও ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা সাফরানের মধ্যেও চুক্তি হয়েছে। দুই সংস্থা এখন ভারতেই হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে। ভারতীয় ও ফরাসি সেনার যৌথভাবে কাজের বিষয়েও চুক্তি হয়।
এক বিবৃতিতে মোদি বলেন, ‘ভারতের পুরানো কৌশলগত সঙ্গীদের মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম। সারা বিশ্ব এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত-ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্বে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি শক্তি হিসাবে কাজ করবে।’ ভারতের মাটিতে কপ্টার উত্পাদনের বিষয়ে মোদি বলেন, ‘ভারতের উপর ফ্রান্সের যে গভীর বিশ্বাস রয়েছে, তা এই কপ্টার অ্যাসেম্বলি লাইনই প্রমাণ। আমি গর্বিত যে, ভারত ও ফ্রান্স যৌথভাবে বিশ্বের একমাত্র কপ্টার তৈরি করবে, যা মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। এই কপ্টার অন্য দেশেও রপ্তানি করা হবে।’ রাফাল কেনা নিয়ে বিবৃতিতে কোনও মন্তব্য না থাকলেও, জানা গিয়েছে, যুদ্ধবিমানে রাশিয়া নির্ভরতা কমাতে ১১৪টি রাফাল কিনবে ভারত। এগুলি তৈরি হবে ভারতেই। ম্যাক্রঁও জানান, ফ্রান্সের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশীদারদের মধ্যে ভারত অন্যতম। তিনি বলেন, ‘রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে সাবমেরিন—সব ক্ষেত্রেই আমরা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করে চলেছি।’