


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেষ ১৫টি টি-২০ ম্যাচে মোট রান ২৬২। গড় ১৭.৪৬। তার পরেও দিব্যি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ পাচ্ছেন সঞ্জু স্যামসন। শুধু কী তাই, টি-২০ বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও রয়েছেন কেরলের এই কিপার-ব্যাটসম্যান। ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ একজন ক্রিকেটারকে কোন যুক্তিতে বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হল? এই প্রশ্নও উঠছে। ওঠাই স্বাভাবিক।
টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সঞ্জুর পথ চলা শুরু ২০১৫ সালে। ৫৬টা ম্যাচ খেলেছেন। রয়েছে তিনটি সেঞ্চুরিও। তিনি এখন অস্তমিত সূর্য। গত দু’বছরে এমন অবিশ্বাস্য কিছু করেননি, যার জন্য তাঁকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা জরুরি হয়ে পড়েছিল। অথচ সঞ্জুকে সুযোগ করে দিতে বাদ দেওয়া হয় খোদ শুভমান গিলকে। টি-২০ বিশ্বকাপে গিল ব্রাত্য থাকায় বিস্মিত হয়েছিলেন অনেকেই। আসলে খারাপ ফর্মের কারণে তাঁর উপর আস্থা রাখতে পারেননি নির্বাচকরা। অগত্যা বিশ্বকাপের দরজা বন্ধ। তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত মোটেও সহজ ছিল না। কারণ, রোহিত, কোহলি পরবর্তী সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টরবয় তিনিই। তবুও দল নির্বাচনী বৈঠকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটিকে। কোচ গৌতম গম্ভীরের তাতে সায় ছিল কি? কয়েকদিন আগেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, সব সিদ্ধান্ত আমার পছন্দ মতো হয় না। তবুও ব্যর্থতার যাবতীয় দায় আমাকেই নিতে হয়। তাহলে কি গিলকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁর সায় ছিল না? একটা বা দুটো সিরিজে খারাপ খেলার জন্য গিল যদি ছাঁটাই হন, তাহলে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরেও সঞ্জুকে কেন জামাই আদরে জাতীয় দলে রেখে দেওয়া হবে?
আসলে সঞ্জু হলেন কপাল গুণে গোপাল ঠাকুর। ৩১ বছর বয়সেও তিনি উদীয়মান ক্রিকেটারের ট্রিটমেন্ট পাচ্ছেন। এখনও স্বপ্ন বিলি হচ্ছে, আবার ঝলসে উঠবে তাঁর ব্যাট। কে বলতে পারে, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ ম্যাচে সঞ্জু ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠবেন না? ক্রিকেটে সবই সম্ভব। তবে ফরম্যাট যাই হোক, ওপেনারদের ধারাবাহিকতা থাকাটও জরুরি। অভিষেক শর্মা যেরকম ফর্মে আছেন, তার সিকিভাগ যদি সঞ্জু দেখাতে পারেন, তাহলে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেতাব ধরে রাখার লড়াই অনেক সহজ হবে ভারতের।
৭ ফেব্রুয়ারি মেগা টুর্নামেন্টে অভিযান শুরু টিম ইন্ডিয়ার। অথচ ওপেনিং জুটি নিয়ে চিন্তা এখনও কাটেনি। সঞ্জুর জায়গায় ঈশান কিষানকে দিয়ে ওপেন করানো যায় কিনা, তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা। বিশ্বকাপের আগে রীতিমতো ধর্মসংকটে টিম ইন্ডিয়া!