


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রশাসন যতটা স্পষ্ট ও বিস্তারিত ঘোষণা করছে, ভারত সরকার ঠিক ততটাই নীরব। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বুধবার সংসদে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু সেই বিবৃতির নির্যাস, দু’দেশেরই এই চুক্তির ফলে উপহার হবে গোছের আশ্বাস। অথচ তার আগেই ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়েছে, চুক্তির শর্ত।
হোয়াইট হাউস বলেছে, ভারত আগামী পাঁচ বছর ধরে আমেরিকা থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করবে। রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। আমেরিকার থেকে তো বটেই, ভেনেজুয়েলার তেলও কিনতে হবে ভারতকে। যা আদতে মুনাফা দেবে আমেরিকাকে। এই বিবৃতির পর বুধবার পীযূষ গোয়েল সংসদে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারত ও আমেরিকা দুই দেশের পক্ষে ভারসাম্যযুক্ত এবং পারস্পরিক লাভজনক হবে এই চুক্তি। আমেরিকার ভারতের উপর যে ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছে, সেটি ভারতের বাণিজ্য প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য দেশগুলির তুলনায় কম। সংসদে বিরোধীদের প্রবল বাধাদান ও হইচইয়ের মধ্যে গোয়েল বলেন, আমি আশ্বস্ত করছি যে, সার ও কৃষি সেক্টরের স্বার্থের কথা এই চুক্তি করার আগে মাথায় রাখা হয়েছে। ভারত যে ৫০ হাজার কোটি ডলার পণ্য আমদানিতে বাধ্য হবে এবং বছরে আমেরিকার বাণিজ্য দ্বিগুণ হতে চলেছে—তার কোনো বিরোধিতা গোয়েল করেননি। তিনি বলেছেন, ভারত শুধুই যে ক্রয় করবে এমন নয়। ভারতও সমানভাবে রপ্তানি করবে। কিন্তু আমেরিকা প্রতিটি শর্ত ও চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ যেখানে প্রতিদিন নিয়ম করে ঘোষণা করছে, সেখানে ভারত কেন এখনও চুক্তির প্রধান প্রধান শর্ত নিয়ে নীরব? এই প্রশ্ন বিরোধীরা বুধবারও করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমরা শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ চুক্তি প্রকাশ্যে ঘোষণা করব। এখনও কাগজে কলমে সব শর্তাবলি লেখা চলেছে। একবার সেই পেপারওয়ার্ক হয়ে গেলেই বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ভারতের পণ্য আমেরিকায় পাঠানো হলে ১৮ শতাংশ শুল্ক বলবৎ হবে। আমেরিকার বহু পণ্য ভারতে রপ্তানি করতে শুল্ক লাগবে না। সেগুলির শুল্ক হবে শূন্য। ভারত কৃষিপণ্য, এয়ারক্র্যাফট, সামরিক প্রযুক্তি সহ একঝাঁক পণ্য ক্রয় করবে। যার বাণিজ্য মূল্য হবে বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার। চুক্তিতে বলা হয়েছে পাঁচ বছরে এই চুক্তির শর্ত মানা হবে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য কিনবে ভারত। বুধবার যখন সংসদে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী বিবৃতি দিচ্ছেন, তার আগে ও পরে, সারাদিন ধরেই সংসদের অন্দরে ও বাইরে বিরোধীদের স্লোগান ছিল, এখন প্রধানমন্ত্রীর নাম সারেন্ডার মোদি!