


নয়াদিল্লি: গত সপ্তাহেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা হয়েছে। ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ থেকে শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার কথা জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এক সপ্তাহের মধ্যেই সোমবার বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করল আমেরিকা। বাংলাদেশের পণ্যে উপর মার্কিন শুল্কের পরিমাণ কমে হয়েছে ১৯ শতাংশে। কেন্দ্রের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে ভারতীয় পণ্যে সবচেয়ে কম শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। আপাতদৃষ্টিতে শুল্কের হারে ভারতের অ্যাডভান্টেজ মনে হলেও রয়েছে আশঙ্কার কাঁটাও। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি ক্ষতির মুখে ঠেলে দিতে পারে এদেশের বস্ত্রশিল্পকে। এমনকী, দেশের তুলো রপ্তানিও ধাক্কা খেতে পারে দাবি করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস।
মার্কিন মুলুকে বাংলাদেশের মোট রপ্তানিকৃত পণ্যের ৮০ শতাংশই পোশাক। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের পণ্যে শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ করেছে আমেরিকা। তবে বস্ত্রশিল্পে ঢাকাকে বেশ কিছু অতিরিক্ত সুবিধা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আমেরিকা থেকে আমদানি করা তুলোয় তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে পুরোপুরি শুক্ল ছাড় দেওয়া হয়েছে। হাতে বোনা পোশাকের উপরেও শুল্ক শূন্য শতাংশ। এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কংগ্রেস বলেছে, চুক্তির এই ধারা ভারতীয় পোশাক রপ্তানিকারীদের কড়া টক্করের মুখে ফেলে দিতে পারে। কারণ, শুল্ক শূন্য হওয়ার কারণে মার্কিন বাজারে তুলনামূলক সস্তা হবে বাংলাদেশি পোশাক। যার ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে ভারত।
তার উপর ভারতের তুলো রপ্তানিও ধাক্কা খেতে পারে। বাংলাদেশ ভারতীয় তুলোর সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ভারতের রপ্তানিকৃত তুলোর ৭০ শতাংশই যায় বাংলাদেশ। নতুন বাণিজ্যচুক্তির কারণে বাংলাদেশে আমেরিকা থেকে তুলোর আমদানি বাড়তে পারে। ফলে ধাক্কা খেতে পারে ভারতের তুলো রপ্তানি। বাংলাদেশ-মার্কিন চুক্তির প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে এদেশের শেয়ার বাজারে। মঙ্গলবার বস্ত্র রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদরে পতন হয়েছে। এদিকে বাণিজ্যচুক্তির জেরে ভারতীয় বস্ত্রশিল্প ক্ষেত্রে আশঙ্কা নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। শিবসেনা (উদ্ধব) সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীর আক্রমণ, ‘ভারতের উপর মার্কিন শুল্ক ১৮ শতাংশ। বাংলাদেশের পোশাকে শুল্ক নেই। এদেশের রপ্তানিকারকরা কীভাবে লাভবান হবেন, তা কী জানাবেন বাণিজ্যমন্ত্রী?’