


সংবাদদাতা, বসিরহাট: রান্নার গ্যাসের সঙ্কটের সময় হেঁসেলে বিকল্প হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে ইলেকট্রিক ইনডাকশন। বাজারে এই উনুনের চাহিদা বাড়তেই দাম বাড়াচ্ছে প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলি। সম্প্রতি এই ইনডাকশনের দাম বেড়েছে গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। চাহিদা এতটাই বেশি যে, ক্রেতারা বাজারে গিয়ে পছন্দসই ব্র্যান্ডের ইনডাকশন পাচ্ছেন না। বাদুড়িয়ার কেওটাশা এলাকায় ইলেকট্রনিক গুডসের বিক্রেতা নাজমুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য বছর গরম বাড়তেই বাজারে ফ্রিজ, কুলার, ফ্যান, এয়ারকন্ডিশন মেশিনের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার প্রথা ভেঙে সবথেকে বেশি বিক্রি হচ্ছে করে ইনডেকশন কুকটপ। অনেকের মতে, এলপিজি’র তুলনায় ইনডাকশন অনেক বেশি সাশ্রয়কারী। কারণ রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৯৪০ টাকা। বকশিস অঙ্ক ধরলে তা হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। সেক্ষেত্রে ইনডাকশনে রান্না করলে বিদ্যুতের খরচ মাসে সাড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে থাকে।
তবে এই কুকটপের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। কেবলমাত্র যে সব বাসনের তলদেশ সমতল, সেগুলিই একমাত্র ব্যবহার করা যায়। পেশায় শিক্ষিকা শম্পা বিশ্বাস বলেন, বহুদিন আগে শখ করে ইন্ডাকশন কিনেছিলেন, কিন্তু কখনও ভাবতে পারেননি এত কাজে লাগবে। তবে ইন্ডাকশন কখনই গ্যাসের উনুনের বিকল্প হতে পারে না। অল্প রান্না, চা বা জল গরম করার ক্ষেত্রে খুব কার্যকরী।
বাদুড়িয়ার গৃহবধূ মিরাতুন নাহার বলেন, গত ১২ বছর ধরে গ্যাসের উনুনে রান্না করছেন। তবে এখন বাধ্য হয়ে ইন্ডাকশন ব্যবহার করতে হচ্ছে। আরেক শিক্ষক অমৃত মণ্ডল বলেন, দেশজুড়ে বিভিন্ন গ্যাস এজেন্সিগুলির সামনে প্রতিদিন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ হচ্ছে। কোনো কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে আবার সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগও রয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্যাসের অপচয় বন্ধ করতে হবে।