


সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করতে সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ভবন, বিভাগ ও ক্যাম্পাসের নানা জায়গায় সিসি ক্যামেরা সেন্সাস ও সিকিউরিটি অডিট শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগ। এমনকী, নিরাপত্তা কর্মীদেরও নতুন করে শারীরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। বহিরাগতদের অবাঞ্ছিত প্রবেশ আটকাতে তথা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সুরক্ষিত রাখতেই এমন উদ্যোগ বলে বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্যের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হল বিশ্বভারতী। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে পড়ুয়ারা পড়াশোনা করতে আসেন কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে, ক্যাম্পাস সংলগ্ন নির্জন রাস্তায় আকছার ইভটিজিং, শ্লীলতাহানি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়াতেই এই পদক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক ও অন্যান্য কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিশ্বভারতীতে ‘ওয়াচেন ওয়ার্ড’ খোলা হয়। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তাকর্মী। তবে, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ, রবীন্দ্রভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে চুরি যায় বিশ্বকবির নোবেল পদক সহ ঠাকুর পরিবারের মূল্যবান সামগ্রী। আজও সেই নোবেল উদ্ধার করতে পারেনি সিবিআই। আবার, শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাসের আনন্দ সদন হোস্টেলে ঢুকে সঙ্গীত ভবনের ছাত্রী শাশ্বতী পালকে গুলি করে খুন করে তারই প্রাক্তন প্রেমিক অমরেশ কুণ্ডু। ক্যাম্পাসে এই ধরনের ঘটনায় গোটা দেশে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। তারপরেই সরকারি ও বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বর্তমানে নজরদারির প্রয়োজনে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলির অধিকাংশই বিকল বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তাই ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রক্রিয়া শুরু করল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন ও বিভাগের সিসি ক্যামেরা ও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলি কী অবস্থায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষীদের ‘ফিটনেস’ পরীক্ষা করতে শান্তিনিকেতনের নাট্যকর সংলগ্ন এলাকায় শারীরিক প্রশিক্ষণও শুরু করেছে নিরাপত্তা বিভাগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বেশকিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বারগুলিতে পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। বহিরাগতদের গতিবিধির উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি, পুরনো ক্যামেরাগুলি মেরামত করা হচ্ছে। রাতে নিয়মিত টহল দেওয়ার জন্য নিরাপত্তাকর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়াও, ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর সংস্কার এবং আলোর ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এতে ক্যাম্পাসের সকলে আরও সুরক্ষিত বোধ করবেন।
কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ছাত্রছাত্রী এবং অধ্যাপকদের অনেকেই। বিশ্বভারতীর বিনয় ভবনের ছাত্র শুভদীপ দে, তন্ময় পাল বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করায় ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পঠনপাঠনের পরিবেশ বজায় থাকবে। বহিরাগতদের অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশও বন্ধ হবে।