


সংবাদদাতা, বনগাঁ: সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে বেশকিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার। ফলে পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। তার প্রভাব পড়েছে বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে। কাজ কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরোধিতা করে রবিবার প্রতিবাদে শামিল হলেন সেখানে কর্মরত পাঁচটি শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। সংখ্যায় তাঁরা ১২০০। আমদানি কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা একপ্রকার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বন্দর সূত্রে খবর, আগে বাংলাদেশ থেকে দুশো-আড়াইশোর বেশি পণ্যবোঝাই ট্রাক আসত। এখন তা অনেকটাই কমেছে। বন্দরে কর্মরত শ্রমিক মেহেবুব হাসান বলেন, ‘আগে সপ্তাহে দু’হাজার-আড়াই হাজার টাকা আয় হতো। এখন সাপ্তাহিক রোজগার মাত্র পাঁচ-সাতশো টাকায় নেমে এসেছে। জানি না, এভাবে চললে আগামী দিনে সংসার চালাব কী করে?’ বাংলদেশে হাসিনা সরকারের পতন ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভারত-বিরোধিতার নীতিতে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ থেকে রেডিমেড পোশাক, পাট এবং পাটজাত পণ্যের একাংশ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হতেই কমেছে বাংলাদেশ থেকে আসা গাড়ির সংখ্যা।
এই বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি অরুণাভ পোদ্দার (দেবু) বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত আমাদের মেনে নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে শ্রমিকদের কথাও সরকারের ভাবা উচিত।’
অন্যদিকে, এই বিষয়টি নিয়ে আইএনটিটিইউসি নেতা রামপদ বিশ্বাস বলেন, ‘সরকার পেট্রাপোল বন্দর থেকে বাণিজ্য সরিয়ে অন্য বন্দরে নিয়ে গেল। আমরা দুর্দশার মধ্যে আছি। আগামী দিনে বহুজাতিক সংস্থার সুবিধা পাইয়ে দিতেই এটা করা হয়েছে বলে আমাদের মনে হয়।’