


নয়াদিল্লি: যন্তরমন্তরে সিজেপির প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের হেনস্তার ঘটনা থামছেই না। স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদী ইনফ্লুয়েন্সার স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ প্রকাশ্যে বুক ঠুকে দাবি করেছিলেন, যন্তরমন্তরে কিশোরী আন্দোলনকারীর বাবার মাথা মেরে ভেঙে দিয়েছি। রাজনৈতিক ‘প্রভাব’ বোঝাতে কপিল মিশ্র, চিরাগ পাসোয়ান, এমনকী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘দাদা’ বলে দাবি সম্বোধন করেছিলেন তিনি। যদিও বিক্ষোভের জেরে চাপের মুখে অবশেষে স্বতন্ত্রকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। তবে স্বতন্ত্র গ্রেপ্তার হতেই ওই কিশোরীর বাড়িতে ইট নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চলেছে বলে অভিযোগ। এব্যাপারে বৃহস্পতিবার কড়া বার্তা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এদিন বলেছে, ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে বলে কোনো ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে ভয় দেখানো হবে, এটা বরদাস্ত করা যায় না। ঘটনাচক্রে, গ্রেটার নয়ডার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠীকে নোটিস দেওয়ার ঘটনায় একদিন আগেই শীর্ষ আদালতের তোপের মুখে পড়েছেন এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। এবার কিশোরী আন্দোলনকারীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে বলেছে শীর্ষ আদালত। এই বিষয়ে দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ সরকারের রিপোর্টও তলব করা হয়েছে।
শুনানিতে ১৪ বছরের ওই কিশোরীর আইনজীবী অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করায় মেয়েটির বাড়িতে ভাঙচুর চলেছে। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার পরিবর্তে কিশোরীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ বলেছে, এধরনের বিষয় হালকাভাবে নেওয়া যায় না। কোনো শিশুর উপর হামলা চালিয়ে কিছু ব্যক্তি যদি অবাধে ঘুরে বেড়ায় ও শিশুটি বা তার পরিবারকে ভয় দেখিয়ে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে, তাহলে তা গুরুতর বিষয়।