


ঙ্গালুরু: কাউন্টডাউন শেষ। ১৯তম আইপিএল শুরু হচ্ছে শনিবার। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মুখোমুখি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। গত মরশুমে অধরা মাধুরীর খোঁজ পেয়েছেন বিরাট কোহলিরা। প্রথমবার আইপিএল জয়ের তৃপ্তিকে রশদ করে নতুন মরশুমে মাঠে নামছেন তাঁরা। সঙ্গে থাকছে খেতাবরক্ষার তাগিদ। কিং কোহলিকেও দেখাচ্ছে সঙ্কল্পবদ্ধ। প্র্যাকটিসে নেমেই সতীর্থদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই দু’মাস সব ভুলে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্যে, বার্তা তাঁর।
বিরাটের সঙ্গে ফিল সল্ট, টিম ডেভিড, জেকব বেথেল, রোমারিও শেফার্ড, বেঙ্কটেশ আয়ার, দেবদূত পাদিক্কাল— ব্যাটিং রীতিমতো শক্তিশালী। তবে কোন চারজন বিদেশিকে খেলানো হবে তা নিয়ে জল্পনা থাকছেই। এমনিতে আরসিবি’র দুই ওপেনার হলেন বিরাট-সল্ট। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত টি-২০ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরির পর বেথেলকে বসানো মুশকিল। ইংল্যান্ডের বাঁ-হাতি ব্যাটারটিকে অবশ্য মিডল অর্ডারেও নামানো যায়। সেক্ষেত্রে টিম ডেভিড বা রোমারিও শেফার্ডের মধ্যে কোনও একজনকে ডাগ আউটে রাখতে হবে। আর একটা বিকল্পও রয়েছে। সেটা হল এই চারজনকেই খেলানো। কিন্তু এতে কোনও বিদেশি পেসারকে নামানো যাবে না। রজত পাতিদারের নেতৃত্বাধীন আরসিবি’কে এমনিতেই চিন্তায় রাখছে পেসার জশ হ্যাজলউডের অনুপস্থিতি। কবে যে তিনি মাঠে নামতে পারবেন তা এখনও ঠিক নয়। পাশাপাশি, ধর্ষণের মামলায় বিচারাধীন বাঁ-হাতি পেসার যশ দয়ালকেও এই মরশুমে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নুয়ান থুসারাকেও শুরুর দিকে পাওয়া যাবে না। ফিটনেস টেস্টে পাশ না করায় শ্রীলঙ্কা বোর্ডের ছাড়পত্র পাননি তিনি। ফলে পেস বোলিং বিভাগের দায়িত্ব বর্ষীয়ান ভুবনেশ্বর কুমারের কাঁধে। বিদেশি পেসার হিসেবে জেকব ডাফিকে খেলানোর ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সল্ট, বেথেল, ডেভিড, শেফার্ডের মধ্যে কোনও একজনকে বসতে হবে। স্পিনে ক্রুনাল পান্ডিয়ার সঙ্গে থাকছেন সুয়াশ শর্মা।
অন্যদিকে, এক দশক আগে আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সানরাইজার্স। তারপর সাফল্য আসেনি। চোটের জন্য শুরুর দিকে প্যাট কামিন্সকে পাওয়া যাবে না। ফলে নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব সামলাবেন ঈশান কিষান। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন তিনি। ডেপুটি অভিষেক শর্মা টি-২০ বিশ্বকাপে ছন্দে ছিলেন না। তবে ফাইনালে বিধ্বংসী মেজাজেই দেখা যায় তাঁকে। ট্রাভিস হেডও আছেন টপ থ্রি-তে। মিডল অর্ডারে হেনরিখ ক্লাসেন, লিয়াম লিভিংস্টোন, নীতীশ রেড্ডিরা থাকায় গভীরতা যথেষ্ট। তবে বোলিংয়ে কামিন্সের অভাব পূর্ণ হওয়া কঠিন। ব্রাইডন কার্স, জয়দেব উনাদকাট, হার্শল প্যাটেল, হর্ষ দুবেদের সামনে তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ। অবশ্য ব্যাটিংয়ের জোরে বোলিং দুর্বলতাকে ঢাকতে মরিয়া উভয় পক্ষই। এখনও পর্যন্ত মোট ২৫ বার মুখোমুখি হয়েছে দু’দল। তার মধ্যে ১৪ বার জিতেছে সানরাইজার্স। ১১ বার জয়ী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। তবে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা নিশ্চয়ই এই ফারাক ঘোচাতে চাইবে।
চিন্নাস্বামীতে এই ম্যাচ আবার অন্য কারণে তাৎপর্যের। গত ৪ জুন আরসিবি’র বিজয়োৎসব বদলে গিয়েছিল শোকে। ১১ জন ক্রিকেটপ্রেমী প্রাণ হারিয়েছিলেন। তাঁদের স্মরণে ১১টি আসন ফাঁকা থাকছে গ্যালারিতে। আরসিবি’র প্র্যাকটিস জার্সিতেও থাকছে ‘১১’ লেখা। একসময় এই ম্যাচ হওয়া নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা যাতে আর না হয়, সেজন্যই সজাগ বেঙ্কটেশ প্রসাদের কর্ণাটক ক্রিকেট সংস্থা।