


তেহরান: সাতমাস আগে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তা এখন কার্যত গোটা পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথি জঙ্গিদের হামলায় সন্ত্রস্ত সৌদি আরব। এই অবস্থায় ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য আমেরিকার কাছে সাতটি শর্ত দিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসিন রেজাই বলেছেন, তাঁরা এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মহসিন লিখেছেন, ‘আলোচনা শুরুর জন্য মার্কিন সরকারকে সাতটি শর্তের কথা জানানো হয়েছে। ইরানের বার্তা স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন। নিজেদের জন্য যে গর্ত আমেরিকা খুড়েছে এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে এই শর্তগুলি মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।’
আমেরিকাকে কী শর্ত দিয়েছে ইরান? কাতারের আল জাজিরা টিভি চ্যানেলকে মহসিন জানিয়েছেন, ইরানের বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি অবিলম্বে ফেরাতে হবে। এটাই মূল শর্ত। পাশপাশি ইরানের বন্দরগুলি থেকে আমেরিকাকে অবরোধ সরাতে হবে। ইয়েমেনের হুথি জঙ্গিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধ বন্ধেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। মহসিন বলেন, ‘কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। যুদ্ধ বন্ধে আমাদের দেওয়া শর্তগুলির কথা তাদের মাধ্যমে পৌঁছে গিয়েছে ওয়াশিংটনের কাছে। দেখি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কী উত্তর আসে। তাদের স্বার্থেই ওয়াশিংটনকে এই শর্তগুলি মানতে হবে। ট্রাম্পের হুমকি কোনো কাজে আসবে না। আমরা নির্ণায়ক যুদ্ধের অপেক্ষায় রয়েছি।’ আমেরিকার পক্ষ থেকে এখনও ইরান আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে বলে মহসিন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘দেশের গোয়েন্দা এবং সেনা সূত্র বিশ্লেষণ করেছি। তাতে মার্কিন আক্রমণের আশঙ্কা রয়েই গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।’
নিজেদের দাবি থেকে যে ইরান একচুলও সরবে না, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন মহম্মদ বাকের কালিবাফ। ইরানি পার্লামেন্ট মজলিশের স্পিকার ফারস নিউজ এজেন্সিকে রবিবার জানিয়েছেন, ‘ইরান আলোচনা এবং যুদ্ধ একসঙ্গে চালিয়ে যাবে। সামরিক শক্তি ব্যবহার করে শত্রুকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে। আর সুবিধা মতো সময়ে নিজেদের শর্ত হাসিল করে নেবে।’