


ওয়াশিংটন: শেষ হইয়াও হইল না শেষ...! প্রাথমিক চুক্তিতে সই সত্ত্বেও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সমাপ্তি নিয়ে কাটল না ধন্দ। নেপথ্যে লেবানন পরিস্থিতি।
স্থির হয়েছিল, চূড়ান্ত সমঝোতা পাকা করতে ৬০ দিন ধরে আলাপ-আলোচনা-দর কষাকষি চলবে। শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডে সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ লগ্নে আচমকাই বাতিল হয়ে গেল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সের সুইৎজারল্যান্ড সফর। স্থগিত হয়ে গেল ইরান-আমেরিকার পূর্ব নির্ধারিত সেই বৈঠক। কিন্তু কেন? সূত্রের খবর, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তিতে লেবাননে হিজবুল্লা-ইজরায়েল সংঘর্ষ বন্ধের কথাও উল্লেখ ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সে গুড়ে বালি! কারণ, ইরান-আমেরিকার প্রাথমিক চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দক্ষিণ লেবাননে হামলা বহাল রাখে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ। শুক্রবার ইজরায়েলের হামলায় নতুন করে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সুইজারল্যান্ডের বৈঠক বাতিল হওয়ার পরে অবশ্য মার্কিন আধিকারিকরা জানান, যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইজরায়েল ও হিজবুল্লা। যদিও বিবাদমান এই দু’পক্ষেরই অভিযোগ, শত্র শিবির হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত লেবানন পরিস্থিতির কারণেই প্রাথমিক চুক্তি সত্ত্বেও পশ্চিম এশিয়া সংকট ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ কাটার নাম নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের আধিকারিকরা জানান, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে গেলে আগে লেবাননে ইজরায়েলের হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে এরই মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে হরমুজ প্রণালী। চুক্তির শর্ত মেনে আপাতত কোনো রকম ফি ছাড়াই জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুট ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারই সেখান দিয়ে মোট ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ গিয়েছে। মধ্য এপ্রিলের পর থেকে একদিনে এত বেশি জাহাজ হরমুজ পেরনোর খবর এই প্রথম। ফলে জ্বালানি সরবরাহে সংকট কাটার ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে।
শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডের ছোট্টো পাহাড়ি গ্রাম ওবুরজেনে ছবির মতো সাজানো একটি রিসর্টে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরুর কথা ছিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্সের। তাঁর সফর উপলক্ষ্যে ওয়াশিংটনের নিকটবর্তী জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুসে পৌঁছেও গিয়েছিলেন ভান্সের স্টাফ ও সাংবাদিকরা। কিন্তু, বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই সেই সফর বাতিল করে দেওয়া হয়। হিজবুল্লা ঘনিষ্ঠ একটি আরব স্যাটেলাইট চ্যানেলের দাবি, লেবাননে ইজরায়েল হামলা বজায় রাখায় ইরান অসন্তুষ্ট। সুইৎজারল্যান্ডে প্রতিনিধি পাঠাতে বিলম্ব করছে তারা। সেই কারণেই ভান্সের এই সিদ্ধান্ত। অন্য একটি সূত্র এও জানাচ্ছে, ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে যেভাবে তড়িঘড়ি পরমাণু চুক্তি হয়েছিল, এবার আর সেই ‘ভুল’ করতে চাইছেন না ইরানের আধিকারিকরা। তাঁরা জানেন, তাড়াহুড়োর মাথায় কোনো ভুলচুক হলে তার জন্য বিশাল মূল্য চোকাতে হতে পারে।