


উজ্জ্বল কুমার (প্রত্যক্ষদর্শী): আচমকা জোরালো শব্দ। চারপাশটা যেন কেঁপে উঠল। আমরা তখন কাজে সবাই কাজে ব্যস্ত। দেখলাম, আমাদের কারখানার দরজা-জানালাও কাঁপছে। প্রথমে মনে হল, ভূমিকম্প হচ্ছে! ততক্ষণে রাস্তায় হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। বাইরে বেরিয়ে এসে দেখি, পাশের গোডাউন মাটিতে মিশে গিয়েছে। চারদিকে ধুলো উড়ছে। ভয়ংকর পরিস্থিতি। আর্তনাদ ভেসে আসছে। একটু দূরে ধ্বংসস্তূপের মাঝে একটা হাত নড়তে দেখলাম। আমরা কয়েকজন ছুটে গেলাম। জলের বোতল নিয়ে আসা হল। জল দেওয়ার চেষ্টা করলাম। একটা জায়গায় গর্তের মধ্যে কয়েকজন চাপা পড়েছিল। সেখান থেকে ওরা চিৎকার করে বলছিল, ‘হাম লোগ ইঁহা হে। হামকো বাচাইয়ে!’ ওরা ঠিক কতজন ওখানে আটকে ছিল, বলতে পারব না। এখানে বহু মহিলাও কাজ করতেন। সেরকম এক মহিলাকে বোতল থেকে জল দিলাম।
একটু এগতেই দেখি, একজনের মাথা ফেটে চৌচির। মাথার ঘিলু পর্যন্ত বেরিয়ে এসেছে! আমার গা শিউরে উঠেছিল। শরীর খারাপ লাগছিল। ওই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে ছুটে সেখান থেকে বেরিয়ে আসি। ততক্ষণে পুলিশ, দমকল, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারে হাত লাগিয়েছেন। সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করে ধ্বংসস্তূপে আটকে যাওয়া কয়েকজনকে বার করে আনলাম। চোখের সামনে এতগুলো মৃত্যু দেখলাম। ঘনঘন অ্যাম্বুলেন্স বার হচ্ছে। কারও হাত ক্ষতবিক্ষত। কারও দুটো পা ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছে! জীবনে কখনও এমন পরিস্থিতির সাক্ষী হইনি। এই যে আপনার সঙ্গে কথা বলছি, এখনও আমার হাত-পা কাঁপছে। চোখের সামনে ভাসছে বীভৎস সেই দৃশ্য।