


উৎপল মান: বনের শুকনো পাতায় কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। রাস্তা থেকে দেখলেই বোঝা যায় সামনের জঙ্গল যেন কেউ সাফ করে দিয়ে গেছে। কারা বনে আগুন দেয়? একটি কুয়োর পাশে দাঁড়িয়ে অনন্ত এ কথাই ভাবছিল। কুয়োটি পরিত্যক্ত। নিজের জল নিয়ে যেন অপেক্ষা করে কারও জন্য। মানুষের ছায়া প্রতিবিম্ব ওর শরীরে এসে পড়ে। অনন্ত আরও কিছুটা ঝুঁকে দেখল। নিজের ছবির নেগেটিভ। জল বলল— এসো। অবগাহন করো। বলল— কে একজন এসে ডুবে মরেছিল এখানে। তারপর থেকে সবাই ভয় পায়। আমাকে ছোঁয় না কেউ।
বনের মধ্য দিয়ে অন্য-অন্য গ্রামে যাওয়ার পথ। সবই ওর চেনা। ওর বাড়ি থেকে স্কুল বারো কিমি। মোটরবাইকে আসে। দু’একদিন ইচ্ছে হলে সাইকেলে। তখন নিজেকে ছেড়ে দেয় অনন্ত। ফেরার পথটি বনের মধ্যে দিয়ে বেছে নেয়। আজও ভাবছিল কী করবে। মূল রাস্তা দিয়ে যেতে হলে সাইকেলে অনেকখানি। বনের ভিতর দিয়ে গেলে অনেকটা রাস্তা কমে যাবে। মনোহর গ্রামের শেষে সাহারজোড়া জঙ্গল। এই জঙ্গলই আবার জয়পুরের জঙ্গলের সঙ্গে মিশেছে। এই পথে হাতি বেরয় মাঝে মাঝে।
পুরু আস্তরণের পাতাসমূহ পুড়ে ছাই হয়ে উড়ে গেছে বনময়। কেমন একটা খাঁ খাঁ পরিবেশ। এবারের এপ্রিলের প্রথম দিকটা এখনও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠেনি। খাতায় কলমে এখনও বসন্ত চলছে। ভরদুপুরবেলা যদিও রোদের তীব্রতা অসহনীয়। কিন্তু বেলা একটু পড়তেই মনোরম বাতাস বইতে শুরু করে। এইরকম চলছে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে। সেই ভরসাতেই সাইকেলে স্কুল এসেছে অনন্ত। প্রায় বনভূমির মাঝেই ওদের ছোট্ট বিদ্যালয়টি। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও খুব একটা বেশি নয়। শিক্ষক ও একাই। কিছুদিন আগে একজন মাস্টারমশাই অবসর নিয়েছেন। চটজলদি নতুন শিক্ষক আসার সম্ভাবনা নেই। ছাত্রছাত্রীরা বেশিরভাগই নিম্নবিত্ত পরিবারের। ওদেরকে নিয়ে ঝামেলা নেই। কিন্তু মিড-ডে মিলের বড়ো দায়িত্ব ওর কাঁধে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী প্রচুর হেল্প করে। ওদের উপরেই অনেক কিছু ছেড়ে দিয়েছে অনন্ত।
সাইকেলে ওঠার আগে বনের ভেতর অল্প গিয়ে এই কুয়োটির পাশে দাঁড়িয়েছিল। তখনও ভাবছিল এইদিক দিয়ে যাবে কি না। আগে গ্রামের লোকেরা ব্যবহার করত কুয়োর জল। কেউ কেউ ছোটো সবজিখেতে ব্যবহার করত। কিন্তু ওই এক দুর্ঘটনা ঘটার পর সকলে একে এড়িয়ে চলে। এখন একা নির্জন নিঃসঙ্গ একটি মানুষের মতো হয়ে আছে। উঁচু পাট বাঁধানো কুয়ো। আগাছা জন্মে গেছে ওর গায়েগতরে।
অনন্ত শুনেছে বহুদিন আগের ওই ঘটনা। অনেক গল্পকথা শোনা যায় ওই মেয়েটিকে ঘিরে। ওর মৃত্যু ঘিরে। ভাবতে ভাবতে সাইকেল চালিয়ে দিল বনের দিকেই। খেয়াল হল, কমপক্ষে একমাস এই বনপথে সে যায়নি। বাইক, সাইকেল ও গোরুরগাড়ি যাওয়ার সরু মিহি পথ। আরও একটু এসেই দেখতে পেল শুকনো বাদামি পাতার অজস্র ঝমঝমানি। নেমে পড়ল। হেঁটে যাবে। দু’হাতে সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরে পাতায় পা ডুবিয়ে হাঁটতে লাগল। ঘাম হচ্ছে। কাঁধে ঝোলানো কাপড়ের সাইডব্যাগ সাইকেলে ঝুলিয়ে দিল। সারা বনে নানা অজানা ফুলের সুগন্ধ।
শেষ যে-বার এসেছিল এই রাস্তা দিয়ে সেটা মনে থাকারই কথা। ক্লাস ফোরের একটি ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। মৃগি রোগ আছে ওর। এই বয়েসেই প্রতিদিন ওষুধ খেতে হয় ওকে। ছেলেটির মা জানিয়েছিল ওকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পর। ছেলেটি সেদিন হঠাৎ হাত-পা খিঁচে পড়ে যাচ্ছিল। দাঁতে দাঁত লেগে গিয়েছিল। স্কুলে এর আগে ওরকম হয়নি ওর। ওরই সহপাঠীরা ওকে ধরেছিল মাটিতে পড়ে যাওয়ার আগেই। মুখে লালা গড়াচ্ছিল। অনন্ত এসে ওর মুখেচোখে জল দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে সুস্থ করে তুলেছিল। ছেলেটি বোবা। ভেজা জামায় চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর অনন্ত দেখেছিল- ওর চোখ দিয়ে গড়গড় করে জল গড়াচ্ছিল। অনন্ত ওর মাথায় হাত দিয়ে মুহূর্ত কয়েক দাঁড়িয়ে থাকার পর অনুভব করেছিল তীব্র এক কষ্ট। গরিব বাড়ির এইটুকু বাচ্চা। সে কি না বোবা! তার ওপর প্রায় দুরারোগ্য একটা অসুখ। নিজের ভিতরে হারিয়ে যাওয়া পুরানো একটা ব্যথা আবার জেগে উঠেছিল। অনাদি নামের ওর এক বাল্যবন্ধু মারা গিয়েছিল। পুকুরে স্নান করার সময় রোগটা জানান দেয়। কেউ ছিল না কাছেপিঠে।
নাহ, মনটা কেমন বিষণ্ণ হয়ে উঠছে। একবার মনে হল সাইকেলটা বনের মাঝে ছেড়ে দিয়ে একা একা সে হেঁটে বেড়াবে। সাইকেল নিজের মতো চলে যাক যেদিকে ইচ্ছে। কিন্তু এই পৃথিবীতে কেউ কাউকে ছাড়তে চায় না। আবার নিবিড়ভাবে ধরে রাখতেও পারে না। যেমন সুলতা। চলে গিয়েও রয়ে গেছে। আবার থেকেও না থাকার মতো। কত অদ্ভুত সম্পর্কের ভিতর মানুষ বেঁচে থাকে। কত ছোটোখাটো ভাঙনের ভিতর।
কোথাও যেন পাতা কুড়োনোর শব্দ। গ্রামের লোকেরা হয়তো বনের ভিতরে এসেছে পাতা কুড়োতে। জ্বালানির কাজে লাগে। অনন্তর মনে হল, ধীরে ধীরে মানুষও পুড়ে যায়। কিন্তু পুড়ে যাওয়ার আগে কেউ কেউ কাজে আসে অন্য মানুষের। নিজের দিকে তাকায় অনন্ত। কেমন একটা নিস্তরঙ্গ জীবন। ভিতরে ঢেউ আছে পুড়ে যাওয়া আছে কষ্ট আছে। কিন্তু বাইরের অভিঘাতে মানুষ কত প্রতিক্রিয়াহীন। এই গাছপালার মতোই।
বনের সরু পথ। একটি টোটো ওর কাছে এসে থামল। দেখল সোনাদা। একসময় মিনিবাসে কন্ডাক্টর ছিল সোনাদা। করোনার কিছু সময় পরে ও নিজে এই টোটো কিনে গ্রামেগঞ্জে চালাতে শুরু করে। বিএ পাস করেছিল। ইতিহাসে অনার্স। প্রথমদিকে টিউশন করত। পরে মিনিবাসে কাজ। এখন টোটোচালক।
‘একা একা এভাবে কোথায় যাচ্ছেন স্যার?’
‘বাড়ি।’
‘চাপুন তবে।’
অনন্ত তেমন কিছু না ভেবে চেপে পড়ল। কিছুটা পথ আসার পর ওর মনে পড়ল ওর সাইকেলটির কথা। ধড়ফড় করে নামতে চাইল। বলল, ‘ও সোনাদা, আমার সাইকেল!’
‘কোথায়?’
‘বনে।’
‘সে কী! আপনার কাছে তো সাইকেল দেখিনি!’
‘একটি গাছের গায়ে ঠেস দিয়ে রেখেছিলাম। আমার ব্যাগটিও আছে।’
হো হো করে হাসতে লাগল সোনা। অনন্ত অপ্রতিভ হল নিজের অন্যমনস্কতার জন্য। বলল, সোনাদা, আপনি চলে যান। আমি হেঁটেই যাচ্ছি ওখানে।’
সোনা তা শুনল না। ওকে নিয়ে আবার সেই জায়গায় নামিয়ে দিয়ে গেল। টাকাও নিল না। অনন্ত কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। মাঝে মাঝে মানুষের মধ্যে কী একটা ভর করে। চারপাশকে তখন ভুলে থাকতে ইচ্ছে করে। ভুলে যেতে চায়। আর বাইরের আবহ বুঝি মানুষের এই প্রবণতাটিকে নিপুণভাবে লুফে নেয়! দিকভ্রান্ত করে এক ভুলভুলাইয়ার মধ্যে নিয়ে যায় তাকে।
সাইকেলটি নিল। চেপে প্যাডেলে পা দিল। সাইকেল চলার শব্দটা পাতা কুড়োনোর আওয়াজের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। অন্যরকম একটা গান যেন। সুলতার মতো মিহি গান কি! আগের স্কুলে সে যখন ছিল, সুলতাই ওকে যেন বাজাত। সে আর সুলতা— দুই জনই ছিল স্কুলের স্টাফ। কতবার ওরা ছুটির দিনে বিষ্ণুপুর, পাঁচমুড়া, মুকুটমণিপুর বেড়াতে চলে গেছে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে গান শুনিয়েছে সুলতা। স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে বনের মাঝে চড়ুইভাতি করেছে। কেমন একটা স্বপ্নের মতো হয়ে উঠেছিল দিনগুলো। কিন্তু সুলতা বেটার একটি চাকরি পেয়ে দুম করে চলে যায় মেদিনীপুর। যোগাযোগ রাখেনি আর।
ঝোড়ো বাতাস বইছে। অনন্ত ওপরে তাকিয়ে দেখল মেঘলা আকাশ। কী আশ্চর্য এই প্রকৃতি! এই তো সে রোদের মধ্যে বেরল। মেঘ এল কোথা থেকে! ছোটোবেলায় পাকিস্তানি এক লেখকের গল্প শুনেছিল ইংরেজি স্যারের কাছে। একটি বালক মেঘ খুঁজতে খুঁজতে চলে যেত দূরে মাঠের দিকে। মেঘ বৃষ্টি আনবে প্রখর গ্রীষ্মে। রাস্তায় কৃষক বা ঘাস কেটে ফেরা কোনো লোকের সঙ্গে দেখা হলেই সে জানতে চেয়েছে, মেঘেদের দেখলে? লোকগুলো খুব অদ্ভুত প্রশ্ন ভেবে ভ্যাবলা হয়ে ওর দিকে চেয়ে থাকত। ছোটোবেলায় ওর নিজেরও একবার এ জাতীয় একটা নেশা চেপেছিল— মেঘ ছোঁবে। প্রচুর সুতো ছেড়ে ঘুড়ি অনেক ওপরে পাঠিয়ে ভাবত ঘুড়ির গায়ে মেঘ লেগে থাকবে।
‘কী গো মাস্টার, আজ এই পথে যে বড়ো?’
অনন্ত দেখল শ্যাম গোঁসাই। গায়ে গেরুয়া বসন। মুখে কাঁচাপাকা বিস্তর দাড়ি। কাঁধে একটি ঝোলা। শ্যাম গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরে নামগান করে। ভিক্ষাদ্রব্য নিয়ে ফেরে। জানাল, ‘এই সাইকেল আজ আমাকে যেদিকে নিয়ে যাচ্ছে সেদিকেই যাচ্ছি গোঁসাই।’
দু’জনেই বসল গাছের তলায়। আহা, ‘খাসা কথা বললে বাপু। সাইকেল যেদিকে নিয়ে যাচ্ছে... আহা, আসলে ওটা সাইকেল না, বুঝলে মাস্টার। ওটাই তো আমাদের ভিতরের নদী।’
অনন্ত হাসল। বলল, ‘একখানা গান করো-না গোঁসাই। তোমার করতাল খানা দেখছি না!’
‘করতাল সবারই আছে মাস্টার। মানে ওই বাজনার কথা বলছি, বুঝলে কি না? ওই বাজনা আপনা-আপনি বেজে উঠবে গানটি ঠিক করে গাইতে পারলে।’ একটু চুপ করে থেকে বলল, ‘সত্যিই শুনবে?’
‘হ্যাঁ গো গোঁসাই। এই পরিবেশে তোমার গান অমৃত। গাও।’
শ্যাম করতাল বের করল না। অনন্ত দেখল গোঁসাই চোখ দুটি বুজে একটু একটু করে মাথা দোলাচ্ছে। মৃদু মুদ্রায় আঙুল নাড়াচ্ছে। অনন্ত যেন অপেক্ষা করতে লাগল একটি পরম মুহূর্তের। কিন্তু আশ্চর্য, গান তো বেরচ্ছে না গোঁসাইয়ের কণ্ঠ থেকে। চোখ বুজে দুলছে মানুষটা। তারপর হঠাৎ প্রচণ্ড এক আক্রোশে নিজের মাথা দোলাতে লাগল। অনন্ত ভয় পেয়ে গেল। কোনো ভেলকি বা ভোজবাজি দেখাতে চায় নাকি গোঁসাই! নাকি ওকে ভয় পাইয়ে দিতে চাইছে। মুখ থেকে গোঁ গোঁ করে আওয়াজ বেরচ্ছে।
অনন্ত ওর কাঁধ মাথায় জোরে ঝাঁকুনি দিয়ে বলল, ‘ও গোঁসাই, কী হল তোমার?’
শ্যাম কিছু না বলে ঝরঝর করে কাঁদতে লাগল। অথচ কেঁদে ওঠার তেমন কোনো শব্দ নেই। অন্তর্গত এক কষ্ট। কী কষ্ট? অনন্ত আবার জোরে ঝাঁকুনি দিল শ্যামকে। বলল, ‘তোমার কিছু হয়েছে গোঁসাই?’
শ্যাম কেমন যেন একটু ধ্যানস্থ হল এবার। মুহূর্ত পরে ঝোলা থেকে একটি গামছা বের করে নিজের চোখমুখ মুছল। কিন্তু কোনো কথা বলল না। অনন্ত ওর হাতে হাত রাখল। বলল, ‘চলো তোমাকে আর গান গাইতে হবে না।’
‘হ্যাঁ, চলো। আমার দুঃখের কথা দিয়ে সোনামুখীর আখড়াতে একজনকে গান বাঁধতে বলেছি।’
‘কীসের দুঃখ? আমাকে বলবে না?’
‘দুঃখের কথা শুনে কী করবে ভাই! দুঃখের কি কারও শেষ আছে। আসলে আমি গানের জন্য যখন মন দিতে চাইলাম, তখনই একটা ভয়ংকর দৃশ্য ভেসে উঠল। আমার চোখে দেখা একটা বাজে ঘটনা। এতদিন কাউকে বলিনি গো মাস্টার।’
‘কী এমন দৃশ্য গোঁসাই? ওটাই কি ভিতরে চেপে রেখে কষ্ট পাচ্ছ? তাহলে তো কাউকে বলে হালকা হওয়াই দরকার।’
‘সেই মেয়েটির কথা মনে আছে মাস্টার?’
‘কোন মেয়েটির কথা?’
‘এই গ্রামের বোসবাবুকে প্রতিদিন হাঁটতে নিয়ে যেত। ওর দেখাশোনা করত। সেই আয়া মেয়েটি। মনে পড়ে?’
অনন্তর মনে পড়ল। চন্দনা নাম ছিল ওর। যে-গ্রামে ওর স্কুল, সেখানেরই ছিলেন বোসবাবু। বড়ো একটা অসুখের পর শরীরের শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। পাশের একটি গ্রাম থেকে আসত মেয়েটি। জিএনএম পাস করা। অর্থের বিনিময়ে অশক্ত-অসুস্থ ব্যক্তির সেবাশুশ্রূষার কাজ করত। অনন্ত বলল,
‘সে তো একদিন ওই কুয়োয় ঝাঁপ...’
‘না না। আমার নিজের চোখে দেখা। ওকে....’
হাত কপালে রেখে আবার ডুকরে কেঁদে উঠল শ্যাম গোঁসাই।
অনন্ত দেখল গাছে গাছে ঝোড়ো হিল্লোল। মেঘগুলো যেন পাক খাচ্ছে আকাশে। একটা গান শুনতে চেয়েছিল সে। পরিবর্তে একটা কান্না শুনতে পেল। শ্যামগোঁসাই উঠে পড়ল।
অনন্ত আর পীড়াপীড়ি করল না গোঁসাইকে। চন্দনা তবে কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে মরেনি! ওকে নির্যাতন করে কারা মেরে ফেলে দিল কুয়োয়! সবটাই লোককে ভয় দেখিয়ে চেপে দেওয়া গেল!
দূরে গাছের আড়ালে চলে যাচ্ছে শ্যাম গোঁসাই। অস্থির হয়ে আছে মানুষটা। অনন্ত শুনতে পাচ্ছে তবু একটা না-গাওয়া গান। কষ্টের গান। গান তো শুধু কণ্ঠ থেকে উৎসারিত হয় না, হৃদয়ের গভীর নির্জন থেকেও নীরবে উঠে আসে।
সাইকেলে চড়ে প্যাডেলে পা রাখল অনন্ত। ঠিক এই সময়ে ওর ফোনটা বাজতে লাগল ব্যাগের ভিতর। রিসিভ করতেই অন্য প্রান্ত থেকে ভেসে এল সুলতার গলা। অনন্ত ফোনটা ব্যাগের ভিতরে রেখে বাতাসের বেগে সাইকেল চালিয়ে দিল।
বৃষ্টি পড়ছে... বৃষ্টি পড়ছে।