


অভিষেক পাল, বহরমপুর: কেউ বলছেন মীরজাফর। কেউ বলছেন রাজনৈতিক কীট। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা জেলা। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের তরফে ১৯ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয় (যার সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান)। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কোনও একজনের সঙ্গে কথা বলছেন হুমায়ুন। দু’জনের কথোপকথন স্পষ্ট। হুমায়ুনকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘মুসলিমদের বোকা বানানো খুব সহজ একটা কাজ।’
এই একটিমাত্র লাইনেই ক্ষোভে ফুঁসছে নবাবী মুলুক। কেউ প্রকাশ্যে, কেই আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। যদিও হুমায়ুনের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে এআই দিয়ে ভিডিও বানানো হয়েছে। এই ভিডিও আসল কি না, তার তদন্ত হবে। তবে, তার আগে হুমায়ুনের উপর চটে লাল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক প্ল্যাটফর্মে। কেউ হুমায়ূনকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘নবাব হওয়ার খুব শখ জেগেছিল মনে! মীরজাফর একটা।’ আবার কেউ লিখেছেন, ‘মীরজাফর আজও বেঁচে আছেন এই মুর্শিদাবাদের মাটিতে।’ কেউ বলছেন, ‘মুর্শিদাবাদের নিকৃষ্টতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।’
গত ৬ ডিসেম্বর হুমায়ুন রেজিনগরে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি তো বটেই গোটা দেশে আলোড়ন পড়ে। তবে, চার মাস যেতে না যেতেই ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়কের মুখে শোনা গেল (সৌজন্যে ওই ভিডিও) মুসলিমদের বোকা বানাতেই বাবরি মসজিদ নাম নিয়ে আবেগতাড়িত করা হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে হুমায়ুন বলেন, ‘আজকের দিনে ১০০টা মুসলমানকে আমার ব্যাপারে খারাপ কথা বললে আপনাকে মেরে দেবে।’ তখন প্রশ্নকর্তা বলেন, ‘বাবরি মসজিদের পুরো ইমোশানটা ধরে ফেলেছেন আপনি! হুমায়ুন বলতে থাকেন, ‘জেনে শুনেই তো এটা তুলেছিলাম। আমাকে অনেকে বলেছিল বাবরি মসজিদ নামটি ছেড়ে দাও। অন্য কোনও নামে মসজিদ করো। কিন্তু অন্য নামে মসজিদ করলে আবেগটা আর থাকত না। বিরোধী দলনেতার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। আমাকে উনি জানিয়েছিলেন, আমাকে দিল্লি নিয়ে যাবে। আর বাংলার ইলেকশনে যিনি হেড তাঁর সঙ্গেও দেখা করাবে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবজী আমাকে জানিয়েছিলেন, তিনি ডাইরেক্ট কথা বলেছেন পিএমওর সঙ্গে, আমাকে নিয়ে।...দিল্লিতে মধ্যপ্রদেশ ভবনে আমাকে তাই ডাকা হয়েছিল দেখা করতে। এখানে কোনও বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হলেও আমার অসুবিধে নেই।’
হুমায়ুনের এই কীর্তি ফাঁস হতেই মুখ খুলেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সংসদ তথা বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। তিনি এদিন বলেন, ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ছে। এর আগে আমাকে হারানোর জন্য দাঙ্গা করানোর কথা বলা হয়েছিল হুমায়ুনকে দিয়ে। সেটাও জানাজানি হয়েছিল। এখন এটাও জানাজানি হচ্ছে।’ ইমাম মোয়াজ্জিন সংগঠনের অন্যতম নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ওই ভিডিওতে যা দেখেছি, সেটা হুমায়ূনের বহরমপুরের বাড়ির ছবি। ওখানে বসে তিনি বলছেন। এই ভিডিওটি সত্য কি না তদন্ত হোক। কিন্তু যদি সত্য হয়, তাহলে মুসলিমদের আবেগ নিয়ে যে খেলা হয়েছে, সেই আগুনেই পুড়ে মরতে হবে ওকে। বাবরি মসজিদের নাম নিয়ে রাজনীতি করছে, সেটা অন্তত এই ভিডিওতে প্রমাণ হয়ে গেল। এটা খুবই দুর্ভাগ্যের।’ লালগোলা লস্করপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গির আলম বলেন, ‘এক হাজার কোটি টাকায় হতভাগা মুসলিম ভোট বিক্রি! অ্যাডভান্স ৩০০ কোটি টাকা! এরা নাকি মুসলিমদের মসিহা! হুমায়ুন আসলে বিজেপির দালাল, ভোটকাটুয়া।আমি আগেও একথা বলেছি।’