


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এ যেন আগামীর হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়া। দলের টিকিট প্রত্যাশী হয়ে হা-পিত্যেশ করে দিন গোনা নয়। বরং ব্যতিক্রমী। ভোটের দামামা বাজার অনেক আগেই তিনি দলকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, পাঁচ বছর তো বিধায়ক থাকলাম, এবার অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া হোক।
শুধু তাই নয়, পাঁচ বছর আগে গলায় যে স্টেথো ঝুলিয়ে প্রচারে নেমেছিলেন ডাক্তারবাবু, বিধায়ক হয়েও তা নামেনি। বরং নিয়মিত রোগী দেখেছেন। হয়ে উঠেছেন শহর-গ্রামের বহু গরিবের ‘ত্রাতা’। চিকিৎসক হিসেবে আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন মানুষের। আবার জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনে এলাকায় ঘুরে মানুষের সমস্যার কথা জেনে সাধ্যমতো তা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। আর তাই এবার ভোটের ময়দানে না থেকেও বিরোধীদের দরাজ ‘সার্টিফিকেট’ পাচ্ছেন জলপাইগুড়ি সদর আসনের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক ডাঃ প্রদীপকুমার বর্মা। বিধায়ক হিসেবে তিনি কতটা সফল তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু দিনের শেষে তাবড় বিজেপি নেতাও একবাক্যে স্বীকার করছেন, ‘ডাক্তারবাবু, মানুষটা সজ্জন’।
প্রদীপকুমার বর্মার মন্তব্য, বিধায়ক কোটার টাকা একশো শতাংশ তো খরচ হয়েইছে। সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের আর্থিক সহযোগিতায় যতটা পেরেছি, উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। বহু কাজ হয়েছে। তবে এখনো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। নিশ্চয়ই এবার যিনি বিধায়ক হবেন, সেদিকে নজর দেবেন তিনি।
বাসিন্দারা অবশ্য বলছেন, গ্রামে যতটা কাজ করেছেন, জলপাইগুড়ি শহরে সেভাবে নজর দেননি বিদায়ী বিধায়ক। পুরবাসীর একাংশের এমন বক্তব্যকে অস্বীকার না করে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, শহরে পুরসভা ঢেলে কাজ করেছে। এখানে আবার বিধায়কের কী করার আছে।
তবে শহরে যে তিনি কাজ করেননি, তা মানতে নারাজ ডাক্তারবাবু। বলেন, জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবের সামনে রোগীর পরিজনদের প্রতীক্ষালয়ে জায়গা অপ্রতুল ছিল। বহু মানুষ কনকনে শীতে কিংবা বর্ষায় ত্রিপল, ছাতা টাঙিয়ে আকাশের নীচে রাত কাটাতে বাধ্য হতেন। বিধায়ক কোটার ১৯ লক্ষ টাকা দিয়ে সেখানে প্রতীক্ষালয় বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাস্তা, এলইডি পথবাতি, সৌরবাতি, সেতু, কালভার্ট, পানীয়জল, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ পাঁচ বছরে আমার বিধায়ক কোটার টাকাতেই ২৩টি কাজ হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের আর্থিক সহযোগিতা ধরলে উল্লেখযোগ্য কাজের সংখ্যা ৬২টি। করলা নদী পেরিয়ে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের লোটাদেবীর মন্দিরে যেতে হত। যাতায়াতের পথ সুগম করতে নদীর উপর সেতু তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, রাজ্যের শাসকদলের বিধায়ক হিসেবে ডাঃ প্রদীপকুমার বর্মার যা করা উচিত ছিল, তিনি তা করতে পারেননি। সরকারি কমিউনিটি হল বন্ধ। পান্ডাপাড়া বউবাজার মার্কেট কমপ্লেক্সের কাজ শুরু হয়নি। মণ্ডলঘাট পঞ্চায়েতে যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটা খারাপ যে, বিএলওদের ট্রাক্টর ভাড়া করে যেতে হয়েছে। আলু প্রক্রিয়াকরণ সেন্টার খোলেনি। ফুড প্রসেসিং হাবের কাজ শুরু হয়নি। তবে, এটা ঠিক ডাক্তারবাবু সজ্জন মানুষ। সেকারণেই হয়তো তৃণমূলের টিকিট পেলেন না। • ডাঃ প্রদীপকুমার বর্মা।