


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগদান প্রসঙ্গে কড়া আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে ‘জনতার দরবার’-এ এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার দিল্লি সফর নিয়ে সংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আজাদি স্লোগান যিনি দেন, তিনি কী করতে পারেন, সবাই জানেন। আমি দিল্লি পুলিশ এবং সেন্ট্রাল আইবিকে বলব,
ভালো করে নজর রাখবেন, এঁর সঙ্গে কোনো দেশবিরোধী শক্তির আবার মিটিং না হয়। দিমাগি নকশালদের এখন মূল মন্ত্রণাদাতা হয়েছেন উনি। এক হাতে জামাত, একহাতে দিমাগি নকশাল। দুজনকে নিয়ে চলছেন।’
এদিন বহু মানুষ এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ। ৬ মাসের শিশুকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মা-বাবা। বিরল রোগে আক্রান্ত সন্তান। চিকিৎসার জন্য একটি ইঞ্জেকশনেরই দাম ১৭ কোটি টাকা! মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর তাঁরা আশ্বস্ত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য সবরকম সাহায্য করবে সরকার। পার্ক সার্কাসে ১৪ কাঠা জমি দখল হয়ে যাওয়ায় পাঞ্জাব থেকে হাজির হয়েছিলেন জগসীর সিং ও সুরিন্দর কুমার। তাঁরা জানান, ১৯৭৫ সালে তাঁদের পরিবারের এক সদস্য একটি ধাবা করেন পার্ক সার্কাসে। ৯৫-৯৬ সাল নাগাদ বন্ধ হয়ে যায় ধাবা। তাঁদের অভিযোগ, ১৪ কাঠা জমি দখল করে নিয়েছে তৃণমূলের কলকাতার এক প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ। মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে প্রামাণ্য নথিপত্রও দিয়েছেন। তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
২৮ লক্ষের বেশি টাকা শেয়ার মার্কেটে খাটানোর নাম করে আইনজীবীর সঙ্গে প্রতারণা হয়। গড়িয়া নবগ্রামের এক বাসিন্দার অভিযোগ বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এক তৃণমূল বিধায়কের দুই ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে। কাঁথি থেকে এসেছিলেন তরুণকুমার ধাড়া। তাঁর ২৩ বছরের ছেলে হাঁটতে পারেন না। তাঁকেও হুইল চেয়ারে এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। মুখ্যমন্ত্রী সুমনের চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন। বাগুইআটির পার্থ দত্তের দোকান ছিল কলকাতায়। একজনের ৬০ বছরের দোকান ২০২২ সাল থেকে দখল হয়ে গিয়েছে। তিনিও এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। দমদম ক্যান্টনমেন্টে ছেলের খুন হয়। তার সুবিচার চাইতে বাঁকুড়া থেকে এসেছিলেন এক অসহায় বাবা। জোর করে, ভয় দেখিয়ে টাকা দিয়ে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ জানাতে আলিপুরদুয়ার থেকে এসেছিলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের দু’জন মানুষ।
পৈলানে ২৩০ বিঘা জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন কয়েকজন। কয়েকশো পরিবার ওই জমি কিনেছিলেন। ইচ্ছে ছিল অবসরের পর থাকবেন। পরে খোঁজ নিতে এসে দেখেন জমির অস্তিত্ব নেই। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁরাও সমাধানের আশায় এসেছিলেন। এক অবসরপ্রাপ্ত ডব্লুবিসিএস অফিসার সোনারপুর রাজপুরে জমি কিনেছিলেন। তাও
দখল হয়ে গিয়েছে। জমি উদ্ধারে তিনিও দরবারে আসেন এদিন।