


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ঘণ্টাখানেক পাইপ ধরে ঝুলেও নিস্তার মিলল না পুলিসের হাত থেকে। কলকাতার ট্যাংরায় অভিযান চালিয়ে এক সাইবার প্রতারককে গ্রেপ্তার করল জঙ্গিপুর সাইবার থানার পুলিস। ধৃতর নাম রাজীব দাস। রাজীবের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে উত্তর ২৪ পরগনার জেটিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জয়ন্ত দাস নামে আরও এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতরা কলকাতার কসবায় কল সেন্টার খুলে প্রতারণার কারবার চালাচ্ছিল। সম্প্রতি এটিএম বসিয়ে দেওয়ার নাম করে সূতির এক ব্যক্তির থেকে আড়াই লক্ষেরও বেশি টাকা হাতানোর অভিযোগ পায় পুলিস। তদন্তে নেমে প্রতারক চক্রের হদিশ মেলে। চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। জঙ্গিপুরের ডিএসপি সুকান্ত হাজরা বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে পুলিস দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত চলছে। সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিস তৎপর রয়েছে।
জানা গিয়েছে, সপ্তাহ তিনেক আগে সূতির নয়াগ্রামের বাসিন্দা ইনসান আলির মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে তাঁর জমিতে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের এটিএম বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। মাসিক ৫০ হাজার টাকা ভাড়া ও একটি চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয় তাঁকে। প্রস্তাবে ওই ব্যক্তি রাজি হয়ে যান। এরপর বিভিন্ন চার্জের নামে টাকা দাবি করা হতে থাকে। ইনসান আলি প্রতারকদের দাবি মতো গুগল পের মাধ্যমে কয়েক ধাপে দুই লক্ষ ৫৭ হাজার ৭৪০ টাকা পাঠিয়ে দেন। তারপর থেকেই আর প্রতারকদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। এটিএম বসানোর জন্য কেই আর যোগাযোগও করেনি। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ইনসান জঙ্গিপুর সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে কলকাতার একটি গ্যাঙের হদিশ পায় পুলিস। সেই মতো গত সোমবার রাতে কলকাতার ট্যাঙরায় একটি ভাড়াবাড়িতে হানা দেয় পুলিস। সঙ্গে ছিল ট্যাংরা থানার পুলিসও। পুলিস এসেছে বুঝতে পেরে ছাদের পাঁচিল টপকে জলের পাইপ বেয়ে নীচে নামার চেষ্টা করে রাজীব। তিনতলা থেকে নীচে নামতে না পেরে প্রায় ঘণ্টা খানেক পাইপ ধরে ঝুলে থাকে। এদিকে ভিতরে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির শেষে বাড়ির পিছনে এসে রাজীবকে পাইপ ধরে ঝুলতে দেখে পুলিস। সেখান থেকে নামিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই জয়ন্ত সহ গোটা গ্যাঙের বিষয়ে জানতে পারে পুলিস। পরে জয়ন্তকে উত্তর ২৪ পরগনার জেটিয়া থানা এলাকার হালিশহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে জেটিয়া থানার পুলিস জঙ্গিপুরের পুলিস দলটিকে সাহায্য করে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিপূর্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক প্রতারণার মামলা দায়ের হয়েছে।
ইনসান আলি বলেন, ওরা এটিএম বসানোর কথা বলায় ভেবেছিলাম মাসে একটা মোটা টাকা ভাড়া পাওয়া যাবে। ভাবিনি ওরা এভাবে প্রতারিত হব। পুলিস তদন্ত করে আমার টাকা ফিরিয়ে দিক আর অপরাধীদের শাস্তি দিক। জঙ্গিপুর সাইবার থানার এক পুলিস আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই দলে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য রয়েছে। কসবার একটি কল সেন্টার থেকে এসব কারবার চালাত। তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেরও হদিশ পাওয়া গিয়েছে, আপাতত সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করা হয়েছে।