


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে ৪০ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে। তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কের পশু, পাখিরাও দাবদাহে নাজেহাল হচ্ছে। জন্তুদের ঠান্ডা রাখতে গুড়জল দেওয়া হচ্ছে। ওদের খাবারের মেনুতে শসা, তরমুজ রাখা হয়েছে। এনক্লোজারের উপর দেওয়া হয়েছে খড়ের ছাউনি। চিতা , ভাল্লুককে নিয়মিত ঠান্ডা জলে স্নান করানো হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, গরমে চিড়িয়াখানার পশু, পাখিদের সুরক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। এনক্লোজারের ভিতর নজর রাখা হচ্ছে।
ঝাড়গ্রাম জেলার অন্যতম পর্যটনস্থল জুলজিক্যাল পার্ক। প্রতিবছর শীতে পর্যটকদের ঢল নামে। মার্চ ও এপ্রিলে জঙ্গলমহলের পাথুরে মাটি তেতে ওঠে। জেলাজুড়ে দাবদাহ অবস্থা তৈরি হয়েছে। চিড়িয়াখানার পশু, পাখিদের গরমের হাত থেকে বাঁচাতে বিবিধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এনক্লোজারের উপর খড়ের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। স্প্রিংকলার বসিয়ে জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাখিদের তাপ থেকে বাঁচাতে ছোটো ও মাঝারি সাইজের কাঠের ঘর তৈরি করা হয়েছে। গুড়জল দেওয়া হচ্ছে নীলগাই, হরিণের পালকে। টিয়া, ফ্রিজেট ,ম্যাকাও সহ অন্য প্রজাতির খাবারের মেনুতে যুক্ত হয়েছে শসা, তরমুজ। ভল্লুক, চিতা সহ অন্য মাংশাসী প্রাণীদের এনক্লোজারে ছাড়ার আগে ঠান্ডা জল দিয়ে নিয়মিত স্নান করানো হচ্ছে। নেকড়ে, হায়না, ফিশিং ক্যাটের মতো বন্য জন্তুদের এনক্লোজারে রাখা খাওয়ার জল ঘনঘন বদল করা হচ্ছে। এই চিড়িয়াখানায় এখন ১৬ প্রজাতির ১৮৭টি স্তন্যপায়ী, ১২টি প্রজাতির ১৫৩ টি সরীসৃপ ও ১৮ প্রজাতির ৭৪ টি পাখি রয়েছে। ঋতুবদল হলেই পশুপাখিদের আচরণেও নানা পরিবর্তন হয়।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ঋতু পরিবর্তনের সময় নানা ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। চিড়িয়াখানার এক আধিকারিকের কথায়, ঝাড়গ্রামে গরমের কারণে এনক্লোজারের পশু, পাখিদের খাবারেও বদল আনা হয়েছে। শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য গুড়জল, শসা ও তরমুজ দেওয়া হচ্ছে। মাংশাসী প্রাণীদের প্রতিদিন ঠান্ডা জলে স্নান করানো হচ্ছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের সুকুমার মহাবিদ্যালয়ে জুলজিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সুমন প্রতিহার বলেন, গ্রীষ্মকালে বন্য জন্তুদের বড় একটা অংশ বিশেষ করে পাখিরা তাপ বাড়ার আগেই শিকার সেরে ফেলে। চিতা,ভল্লুক জাতীয় মাংশাসী প্রাণী সূর্য ডোবার পর শিকারে বের হয়। গরম অত্যধিক হলে মাংশাসী প্রাণীরা জীব বের করে মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়। জঙ্গলের জীব, জন্তুদের গরমে নিজেদের সুরক্ষার জন্য যে লড়াই, তা চিড়িয়াখানার পশু,পাখিদের ক্ষেত্রে সেভাবে করতে হয় না।