


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রোর কাজ খিদিরপুরে এসে থমকে গিয়েছিল। জমিজটে দীর্ঘ কয়েক বছর আটকেছিল গুরুত্বপূর্ণ এই এই মেট্রো পথের কাজ। অবশেষে সেই জট কাটল। রাজ্য ও রেলের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে শুরু হল খিদিরপুর থেকে পাতালপথে মেট্রো চলাচলের জন্য টানেল তৈরির কাজ। টানেল বোরিং মেশিনের (টিবিএম) সাহায্যে মাটি কেটে তৈরি হবে এই টানেল। এই কাজের জন্য খিদিরপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের ভিতরে বিশাল আকারের কুয়ো তৈরি করা হয়েছে। কুয়োটির দৈর্ঘ্য ৩৭ মিটার, প্রস্থ ২২ মিটার এবং গভীরতা ১৭ মিটার। খিদিরপুরের সেখান থেকেই বৃহস্পতিবার টিবিএম ‘দুর্গা’ আনুষ্ঠানিকভাবে টানেল তৈরির মহাযজ্ঞ শুরু করেছে। মেট্রো সূত্রে খবর, চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত টানেল তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে। উল্টোদিক থেকে টানেল তৈরির জন্য রয়েছে টিবিএম ‘দিব্যা’।
২০১১ সালে এই জোকা মেট্রোর কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ ১১ বছর বেহালাবাসীর অসহনীয় দুর্ভোগ চলার পর ২০২২ সালে জোকা থেকে তারাতলা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু হয়। তারপর মাঝেরহাট পর্যন্ত তা সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু শহরের প্রাণকেন্দ্র পার্ক স্ট্রিট কিংবা এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মেট্রো চালু না হলে পর্যাপ্ত যাত্রী পাবে না এই করিডর। এমনিতেই গত তিন বছর ধরে যাত্রী শূন্যতায় ভুগছে এই মেট্রোরুট। আর্থিক লোকসানের বহর এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে টিকিট কাউন্টার সহ যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের একাধিক ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়েছে। মেট্রোকর্তাদের দাবি, দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর খিদিরপুর থেকে মেট্রো টানেল তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় কিছুটা হলেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে। দ্রুততার সাথে টানেল তৈরির পর লাইন প্রস্তুত করে যাত্রী পরিষেবা চালু করাই আপাতত মেট্রোরেলের আগ্রাধিকারের বিষয়। জানা গিয়েছে, পার্ক স্ট্রিটের পর পাতালপথে টানেল তৈরির জন্য পুরনো পদ্ধতিই অবলম্বন করা হবে। অর্থাৎ, ‘কাট অ্যান্ড কভার’-এর প্রথাগত পদ্ধতিতে হবে কাজ। দেশের প্রথম মেট্রো কলকাতাতেই চালু হয়েছিল গত শতকের আশির দশকে। এই পদ্ধতিতে ভবানীপুর থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মেট্রো পথ তৈরি হয়েছিল। আটকে থাকা কাজ শুরুর পরেই প্রস্তাবিত সম্প্রসারিত অংশ নিয়েও নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে আইআইএম জোকা থেকে মেট্রো পথ এসপ্ল্যানেড থেকে এগিয়ে ইডেন গার্ডেন্সের বিপরীতে রোনাল্ড রস সরণি পর্যন্ত প্রসারিত হবে। সেক্ষেত্রে চক্ররেল এবং জলপথ—দুই পরিবহণ মাধ্যমের সুযোগই নিতে পারবেন যাত্রীরা।