


মুম্বই, ২৪ নভেম্বর: সালটা ১৯৩৫, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সূর্য তখন ভারতের মাঝ আকাশে জ্বলজ্বল করছে। চারিদিকে অন্দোলন ধীরে ধীরে দানা বাঁধলেও ইংরেজদের শক্ত গড় টলমল হয়নি। সেই সময়েই অবিভক্ত পাঞ্জাবের শানেওয়ালে ৮ ডিসেম্বর জন্ম নিলেন ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষাণ দেওল। লুধিয়ানার কাছেই ছোট্ট একটি গ্রাম। সেখানেই জন্ম নেন আজকের ‘ধরম’। স্বাধীনতা এসেছে। ধীরে ধীরে প্রাপ্তবয়স্ক ধর্মেন্দ্র শুধুই একটাই কথা ভাবতেন। বড়পর্দায় নিজেরে দেখবেন। ওটাই স্বপ্ন, ধ্যান ও জ্ঞান। সেই স্বপ্নই পূরণ হয়েছে। ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সিনেমার মাধ্যমে ডেব্যু।
যদিও ধর্মেন্দ্রকে লোকে চিনতে শুরু করেন ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘শোলা অউর শবনম’ সিনেমার মাধ্যমে। তারপরে ‘বন্দিনি (১৯৬৩)’, ‘অনুপমা (১৯৬৬)’, ‘ফুল অউর পাথ্থর (১৯৬৬)’, ‘সত্যকাম(১৯৬৯)’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘ড্রিম গার্ল (১৯৭৫)’, ‘চুপকে চুপকে (১৯৭৫)’-এর মতো বেশ কিছু সিনেমা।
বলিউড পেয়ে গিয়েছিল একজন সুঠাম গড়নের নায়ক যাকে দেখতেও সুন্দর। ধর্মেন্দ্র ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’। সালটা ১৯৭৫, বড়পর্দায় এল ‘শোলে’। ‘জয় ও বীরু’র জুটি অর্থাৎ অমিতাভ বচ্চন ও ধর্মেন্দ্রকে দেখতেই সিনেমাহলে ছুটলেন দর্শকরা। ব্ল্যাকে বিক্রি হতে লাগল টিকিট তাও আবার চড়া দামে। বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও সংগ্রামের গল্প বড়পর্দায় ফুটিয়ে তুলে ভারতীয় সিনেমাপ্রেমীদের মনে ধর্মেন্দ্র আকা ‘বীরু’ করে নিলেন এক বিশেষ জায়গা। হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর বড়পর্দায় রসায়ন কারোর চোখ এড়িয়ে যায়নি।
তখন পরিচালক থেকে প্রযোজক সকলেই ধর্মেন্দ্র ও হেমার জুটিতেই সিনেমা বানাতে চাইতেন। তাই একে একে এল ‘শোলে’, ‘ড্রিম গার্ল’, ‘সীতা অউর গীতা’, ‘তুম হাসিন মে জওয়ান’-এর মতো সিনেমা। যদিও স্ত্রী প্রকাশ কাউর থাকতেও, সেই সময়ে হেমা মালিনীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয় ধর্মেন্দ্র’র। যেটি নিয়ে বহু সমালোচনা শুনতে হয়েছিল তাঁকে। সেই বিষয়ে অভিনেতা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দিতে চাইনি। শুধুই মনের কথা শুনেছি। সব সময়ে শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে থাকাটাই পছন্দ করতেন তিনি। কবিতা ভালোবাসতেন। বৃদ্ধ বয়সে লোনাভালার বাগানবাড়িতে চাষ বাস করেই কাটাতেন। সেই বিষয়ে বিভিন্ন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করতেন তিনি। দেশাত্মবোধক, কমেডি কিংবা ‘দ্য বার্নিং ট্রেন’-এর মতো সিনেমা, যাতেই হোক ধর্মেন্দ্র ছিলেন সাবলীল। যুগ বদলেছে, সময় বদলেছে, সিনেমার ধরণও বদলেছে। বলিউডও অন্য কিছু করার চেষ্টা করছে সর্বত্র।
তাতেও খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তাই ধর্মেন্দ্র কাছ থেকে আমরা কখনও পেয়েছি, ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’র পাগল প্রেমিক অমলকে কিংবা ‘আপনে’ বলদেব সিং চৌধুরী বা সদ্য কয়েক বছর আগে মুক্তি প্রাপ্ত ‘রকি অউর রানি কী প্রেম কাহানি’, র ‘কানওয়াল’, যাঁর প্রেম রয়ে গিয়েছিল অসমাপ্ত। ২০১২ সালে পদ্মভূষণ পেয়েছেন ধর্মেন্দ্র। সিনেদুনিয়ার পাশাপাশি নেমেছিলেন রাজনীতির ময়দানেও। বিজেপির হয়ে রাজস্থানের বিকানের আসনে ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। তবে রাজনীতির ময়দানে নামলেও তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ছিল সেই সিনেমাই। তাই বলিউডের এই ‘হি-ম্যানে’র প্রয়াণ হলেও থেকে যাবে তাঁর কাজ। রয়ে যাবে অসংখ্য চরিত্র। আর বলিউড নামক বিশাল ইমারতের প্রতিটি ইটে প্রতিধ্বনিত হবে ধর্মেন্দ্র’র নাম সুদূর ভবিষ্যতেও।