


নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকায় নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় চলছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে কোটি কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সোচ্চার বিরোধীরা। বিতর্কের জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে অন্য দুই কমিশনারের মতবিরোধ সংক্রান্ত খবর ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে চলছে বিক্ষোভ। এই আবহে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ান। রবিবার তিনি সাফ বলেছেন, কোটি কোটি ভারতীয়র ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো পদক্ষেপকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। বিচারপতি ভুয়ানের মন্তব্য, যদি কোনো প্রক্রিয়া লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়, তাঁদের নিজের দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করে, তাহলে তা একান্তভাবেই স্বেচ্ছাচার ছাড়া অন্য কিছু নয়। কোনো যুক্তি বা অজুহাতেই ওই প্রক্রিয়াকে ন্যায়সঙ্গত হিসাবে প্রমাণ করা যায় না। এধরনের কাজ সংবিধানের মৌলিক ভিত্তিতেই কুঠারাঘাতের শামিল।
রবিবার হায়দরাবাদের নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে বিচারপতি ভুয়ান বলেন, এধরনের ভোটাধিকার হরণ ভারতের সংবিধানের আওতায় গৃহীত সাংবিধানিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানে ভোটাধিকারপ্রাপ্ত ও ভোটাধিকারহীন-এমন দুই শ্রেণির নাগরিকের কোনো সংস্থান নেই। তিনি বলেছেন, সংবিধানে প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের বিষয়টি স্বীকৃত। বিচারপতি বলেন, ভোটের অধিকার শুধু বিধিবদ্ধ স্বীকৃতি নয়, বরং তা নাগরিকত্ব ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বিচারপতির বক্তব্যকে সমর্থন করে সুর চড়ান কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের স্বরূপ পুরোপুরি উন্মোচন করেছেন। জ্ঞানেশ কুমার পদে থাকার সমস্ত নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।’ বিচারপতি ভুয়ানের বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন সাংসদ মহুয়া মৈত্রও।
এদিকে, এসআইআরে বাংলায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদের প্রসঙ্গ টেনে কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফলি নরিম্যান।