


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের সামনে স্টল সাজিয়ে বসে রয়েছেন ফল বিক্রেতারা। বসে বসে মাছি তাড়াচ্ছেন! আচমকাই বিক্রিবাটা নেমে এসেছে তলানিতে। কারণ, কবি সুভাষ বা নিউ গড়িয়া মেট্রো স্টেশন থেকে মেট্রো চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। হতাশ হকাররা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলেন, ‘সবাই মিলে অন্য একটা স্টেশন খুঁজতে হবে। সেখানেই শুরু করতে হবে ব্যবসা। এখানে তো আর কিছু হওয়ার নয়!’ তাঁদের দুশ্চিন্তা যথেষ্ট সংগত বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ, পিলার থেকে রেললাইন, সবটাই সম্পূর্ণ ভেঙে নতুন করে তৈরি করতে হবে। এই কাজের জন্য অন্তত দু’বছর লাগবে বলে মনে করছেন ইঞ্জিনিয়াররা। এতদিন ব্যবসা না হলে সংসার চলবে কীভাবে! সেই দুশ্চিন্তাই গ্রাস করেছে হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের।
কবি সুভাষের আগের স্টেশন শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে অবশ্য মেট্রো চলছে। তবে দুর্ভোগের কমতি নেই সেখানেও। যাত্রীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার ব্যস্ত সময়ে ৮ থেকে ১০ মিনিট অন্তর এবং অন্য সময়ে ১২ থেকে ১৪ মিনিট অন্তর মেট্রো চলেছে। অথচ অন্যান্য দিন ৬ থেকে ৭ মিনিট অন্তর পরিষেবা পাওয়া যেত। সূত্রের খবর, দক্ষিণে টালিগঞ্জ এবং কবি সুভাষে মেট্রো সাইডিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে এদিন শহিদ ক্ষুদিরামে যাত্রী নামিয়ে রেক খালি করে তা কবি সুভাষে গিয়েছে। সেখান থেকে আবার ফিরে এসেছে। তার জন্যই সময়ের ব্যবধান বেড়েছে বলে মেট্রো সূত্রে খবর। শুধু তাই নয়, মেট্রোর ইঞ্জিনের মাথায় অন্তিম গন্তব্য লেখা ডিসপ্লে বোর্ড থাকে, সেখানে এদিনও কবি সুভাষ লেখা ছিল। ফলে বহু যাত্রী বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন। অন্যান্য স্টেশনেও এনিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এর উপর মেট্রোর সময় সারণি নিয়ে সমস্যা হওয়ার সবক’টি স্টেশনেই ডিসপ্লে বোর্ড এদিন বন্ধ রাখা হয়েছিল। সব মিলিয়ে বিস্তর ঝামেলায় পড়তে হয় যাত্রীদের। সূত্রের খবর, এদিনই মেট্রোর ইঞ্জিনিয়াররা সরেজমিনে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন। কবি সুভাষ স্টেশনে পিলারের যা অবস্থা, তাতে যাত্রীবোঝাই মেট্রো চালানোর প্রশ্নই ওঠে না বলে মত দিয়েছেন তাঁরা। পিলার, লাইন সবটাই ভেঙে নতুন করে তৈরি করতে অন্তত বছর দু’য়েক লাগবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে, ‘মেট্রো স্টেশন থেকে হেঁটে ৫ মিনিট’ বা এই জাতীয় বিজ্ঞাপন দেখে নিউ গড়িয়া অঞ্চলে অনেকেই গত কয়েক বছরে বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন বা ফ্ল্যাট কিনেছেন। তাঁরা এখন পড়েছেন মহা ফাঁপরে। এখন তাঁদের মেট্রো ধরতে গেলে অটো কিংবা বাস ধরে যেতে হচ্ছে বেশ কিছুক্ষণ। অনেকের প্রশ্ন, ‘এখানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে তাহলে লাভ কী হল? মেট্রো এত কাছে দেখেই তো ফ্ল্যাটটা নিয়েছিলাম।’ এখন যা পরিস্থিতি, তাতে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের চারপাশে খাবারের দোকান, রিকশার স্ট্যান্ড, অটোস্ট্যান্ড—সবই রয়েছে। শুধু স্টেশনে আসছে না কোনও মেট্রো!