


পৌরাণিক গল্পের উপর ভিত্তি করে যদি কোনও ছবি বানানো হয়, তাতে দর্শকের কৌতূহল বেশি থাকে। আর তাতে যদি মিশিয়ে দেওয়া যায় ‘ভয়’, তাতে গল্প আরও জমে ওঠে। বিশেষ করে মা কালীর গল্প। বহু বছর ধরে তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভূত-প্রেত, দত্যি-দানো সক্কলে।
বাংলায় কালীপুজো হয় অমাবস্যার নিশুত রাতে। ভূত-প্রেত সেদিন মর্ত্যে নেমে আসে। শহরে আলোর রোশনাই আর পুজোর জাঁকজমকে সেসব ঢেকেঢুকে গেলেও, গ্রাম বাংলায় এখনও কিছু জায়গায় গা-ছমছমে ব্যাপারটা টিকে আছে বইকি!
এহেন মা কালী আর রক্তবীজ-এর যুগ-যুগ ধরে চলে আসা গল্পে খানিক ভয়, অন্ধ-বিশ্বাস আর কল্পনা জুড়ে দিলেন পরিচালক বিশাল ফুরিয়া। সঙ্গে মেশালেন প্রভাবশালী পিতৃতন্ত্রকে। তাঁর ছবি ‘মা’-এর প্রেক্ষাপট বাংলাই। গ্রামের নাম চন্দরপুর— যেখানে মা কালীর পুজো তখনই হয়, যখন মা কাউকে স্বপ্নে দেখা দেন। সেখানে আছে গভীর জঙ্গল, আর আছে অনেক বছর ধরে বয়ে নিয়ে যাওয়া এক অভিশপ্ত দৈত্য। গ্রামের কোনও মেয়ে প্রথমবার ঋতুমতী হলেই, জঙ্গল তাকে টেনে নিয়ে যায়। আবার ফিরিয়ে দিয়ে যায়, কিছুদিন পর। ফিরে এসে মেয়েরা এতদিন কোথায় ছিল, তাদের সঙ্গে কী হয়েছে, কিছুই বলতে পারে না। যে পরিবারের জন্য গ্রামের এই অবস্থা, সেই বাড়ির ছেলে শুভঙ্কর (ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত) বউ, মেয়ে নিয়ে এসব থেকে অনেক দূরে শহরে থাকে। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে শুধু শুভঙ্করকেই নয়, তার স্ত্রী অম্বিকা (কাজল) আর মেয়ে শ্বেতাকেও (খেরিন শর্মা) ফিরতে হয় চন্দরপুরে। মেয়েকে পারিবারিক অভিশাপ আর দৈত্যর হাত থেকে বাঁচাতে কতটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে হবে অম্বিকাকে?
সন্তান বিপদে পড়লে, সেই বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করতে যে কোনও সীমা পর্যন্ত মায়েরা যেতে পারে। একমাত্র মায়েরাই পারে সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে— এই ঘরানার ছবি নতুন নয় বলিউডে। একসঙ্গে অনেক কিছু বলতে গিয়ে তাই কোনওটাই ভালো করে বলা হয়নি পরিচালকের। ফলে দু’ঘণ্টারও কিছু বেশি ধরে চলা এই ছবি দেখে না লাগে ভয়, না জাগে কৌতূহল।
সেওয়ান কুয়াদ্রাসের দৃশ্য গ্রহণে কালিকাপুর রাজবাড়ি আর তার চারপাশের জঙ্গলে ভৌতিক আবহ তৈরি হলেও, গল্পের বুনোট এতটাই আলগা যে কোনও রোমাঞ্চ তৈরি হয় না। পার্শ্বচরিত্রদের দিয়ে জোর করে জগাখিচুড়ি আর খারাপ উচ্চারণে বাংলা বলানোর চেষ্টা কানে লাগে। শুধুমাত্র ভিএফএক্স-এর জোরে একটা গল্প দাঁড় করানো মুশকিল। তবে কাজল তাঁর অভিনয় দিয়ে চিত্রনাট্যের খামতি ঢাকতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। রণিত রায়কে ভালো লাগলেও তাঁর চরিত্রটি মনোযোগ দিয়ে লেখা হয়নি, অথচ উচিত ছিল। শ্বেতার চরিত্রে খেরিনকে মানায়নি, এর জন্য পরিণত অভিনয়ের প্রয়োজন ছিল। বরং দীপিকার চরিত্রে রূপকথা চক্রবর্তী বেশ ভালো অভিনয় করেছেন।
দেবত্রী ঘোষ