


সংবাদদাতা, কান্দি: মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওইচের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি জাল জন্ম-শংসাপত্র বিলির অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্যাপকভাবে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র বিলি করা হয়েছে। যে সময় এসআইআর প্রক্রিয়া চলছিল, সেসময় শুধু খড়গ্রাম নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সেই ভুয়ো শংসাপত্র পেয়েছেন। আরও গুরুতর অভিযোগ, ব্লক প্রশাসনের তদন্ত শুরু হতেই বিলি করা সার্টিফিকেট ‘নট জেনুইন’ দেখিয়ে পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়। ফলে কতজন ভুয়ো শংসাপত্র পেয়েছেন, তা নিয়েও প্রশাসন অন্ধকারে রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে অভিযোগের বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার শাখারি গ্রামের একজনের শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পুরো বিষয়টি সামনে আসে। শাখারি গ্রামের এক ব্যক্তি খড়গ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে এসে জানান, তাঁর ছেলের জন্ম গ্রামের বাড়িতে। অথচ শংসাপত্রে এই হাসপাতালে জন্ম দেখানো হয়েছে। এরপর খড়গ্রামের বিএমওএইচের বিরুদ্ধে একে একে বহু অভিযোগ সামনে আসে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা তদন্তও শুরু করেছি।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগেই জাল ডিজিট্যাল শংসাপত্র বিলি শুরু হয়েছিল। সেসময় বহু মানুষ এসআইআর নিয়ে হয়রান হচ্ছিলেন। তখন শুধু খড়গ্রাম নয়, রাজ্যের নানা প্রান্তের মানুষকে ভুয়ো শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। এমনকি, এখান থেকে ২০০০সালের আগে জন্ম নেওয়া অনেককে ডিজিট্যাল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি সার্টিফিকেটের নীচে ডিজিট্যাল সই করেছিলেন বিএমওএইচ রিন্টু গাজি। এই অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় ব্লক প্রশাসন তদন্তে নেমেছিল। কিন্তু বিলি করা শংসাপত্র ‘নট জেনুইন’ দেখিয়ে পোর্টাল থেকে ডিলিট করা হয়। ফলে ঠিক কতগুলি ভুয়ো শংসাপত্র বিলি হয়েছে-সেই তথ্য পাওয়া দুষ্কর। শংসাপত্র প্রাপকদের নোটিস করে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। বিএমওএইচ অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি এসবের সঙ্গে যুক্ত নই। কীভাবে হয়েছে সেটাও জানি না। আমার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অন্য কেউ করে থাকতে পারে। আমি তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা চলছে। বিজেপির রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, আমরা আগেও এমন অভিযোগ তুলেছিলাম। ভুয়ো নথি দিয়ে প্রচুর জাল শংসাপত্র তৈরি করা হয়েছে। জাল শংসাপত্র বানিয়ে রাজ্য সরকারের ভাতা সহ নানা সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। রাজ্য সরকার এর তদন্তে নেমেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাতেও এই ধরনের জাল শংসাপত্র তৈরি করা হয়েছে কি না, তার তদন্ত হওয়া দরকার। তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য শাশ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগ গুরুতর। এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া দরকার। আমি শুনেছি, ওই হাসপাতালে একটি চক্র জাল সার্টিফিকেট দেওয়ার কারবার চালায়। খড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বজলে আলম বলেন, বিএমওএইচকে যত দূর চিনি, তাতে মনে হয় উনি এমন কাজ করতে পারেন না। তবে স্বাস্থ্যদপ্তরের কিছু কর্মী তাঁকে অন্ধকারে রেখে এসব করে থাকতে পারে। তদন্তের স্বার্থে বিএমওএইচের ডঙ্গলটি পরীক্ষা করে দেখা দরকার।