


ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জেলমুক্তির দাবিতে দিনকয়েক ধরেই উত্তাল খাইবার পাখতুনওয়া প্রদেশ। প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান তুলছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই)-এর হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক। বিক্ষোভ জোরালো হতেই তা শক্তহাতে দমন করল শাহবাজ শরিফ সরকার। রবিবার খাইবার পাখতুনওয়ার পিটিআই-এর নেতৃত্বাধীন সরকারকে কার্যত অক্ষম করে দিয়ে জরুরি অবস্থা ও গভর্নর রুল জারি করা হল। এর জেরে পেশোয়ারের একাধিক জায়গায় ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন পুলিশ। নির্দিষ্ট কিছু রুটে ব্যারিকেডের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। রাস্তার মাঝে রাখা হয়েছে বড়ো বড়ো কন্টেনার।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। সেখানেই এই সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। পরে মন্ত্রিসভার সুপারিশে অনুমোদন দেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। প্রেসিডেন্ট হাউসের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে খাইবার পাখতুনওয়ার মুখ্যসচিব পদে মহম্মদ ফকর আলম ইরফানকে বসানো হয়েছে। যদিও সরকারের একাংশের দাবি, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান নামক সংগঠনের বিদ্রোহকে সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত। কারণ ইমরানের দলের সরকার সন্ত্রাসদমনে বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
জরুরি অবস্থার তীব্র নিন্দা করেছে পিটিআই। দলের চেয়ারম্যান গোহর আলি খান জানিয়েছেন, মানুষ এই জরুরি অবস্থা মেনে নেবে না। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গুরুতর রাজনৈতিক ভুল। একটি অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। এরইমাঝে পাকিস্তান সরকার ও সেনা নেতৃত্বকে সতর্ক করেছে শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি যে পথে এগচ্ছে, তাতে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা প্রবল। জরুরি অবস্থার জেরে একাধিক রাজনৈতিক দল বেঁকে বসবে। সেনা বিরোধী মনোভাবও ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।