


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সেচদপ্তরের নিষেধ সত্ত্বেও রবি ফসলের জন্য ছাড়া জলের ভরসায় বাঁকুড়ার বহু চাষি বোরো ধান রোপণ করে বসেছেন। বোরো চাষের জন্য পর্যাপ্ত জল দেওয়া যাবে কি না, সে ব্যাপারে সেচদপ্তরের কর্তারা সন্দিহান। চাষিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে। বিকল্প সেচের ব্যবস্থা নেই এমন এলাকায় শেষ পর্যন্ত ধান জমিতে জল পাওয়া যাবে না বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।
বাঁকুড়ার উপকৃষি অধিকর্তা দেবকুমার সরকার বলেন, বোরো চাষের জন্য এবার কংসাবতী সেচদপ্তরের মুকুটমণিপুর ড্যাম থেকে জল দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র রবি চাষের জন্য চাষিরা জল পাবেন। সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বর্তমানে মুকুটমণিপুর ড্যামে জলস্তরের উচ্চতা ৪২২.৮০ ফুট। জলের অপ্রতুলতার কারণে বোরো চাষের জন্য তা দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের তরফে রবি চাষের জন্য দেওয়া জলে চাষিদের অনেকেই বোরো চাষ করেছেন।
চাষিদের মধ্যে রাইপুরের সঞ্জয় রক্ষিত, সারেঙ্গার নিমাই সর্দার বলেন, ঝুঁকি নিয়েই আমরা বোরো ধান রোপণ করেছি। পর্যাপ্ত জল পাওয়া নিয়ে আমরাও সংশয়ে রয়েছি। তবে মাঠে ধান শুকিয়ে যাওয়া আটকাতে সেচদপ্তর জল ছাড়বে বলে আমরা আশাবাদী। এর আগেও আমরা মুকুটমণিপুরের জলে বোরো চাষ করেছিলাম। উল্লেখ্য, মোট চার দফায় ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ওই জলধারের সেচ খাল তথা ক্যানেলে জল ছাড়া হবে। তবে এবারেও শুধুমাত্র রবি চাষের জন্য কংসাবতী প্রকল্পের সেচসেবিত এলাকার জন্য জল দেওয়া হবে বলে আগাম ঘোষণা করে দেওয়া হয়। চাষিরা যাতে ওই জলের ভরসায় বোরো চাষ না করেন, তারজন্য সেচদপ্তর প্রচার করেছিল। কারণ এর আগেও মুকুটমণিপুর থেকে ছাড়া জলে অনেকে বোরো চাষ করেছিলেন। পরে চাহিদা মতো জল না পেয়ে চাষিরা বিক্ষোভ আন্দোলনও করেন। তারপর থেকে সেচদপ্তর প্রতিবছর লিফলেট ছাপিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রচার করে আসছে। এবারও দপ্তরের তরফে এলাকায় লিফলেট বিলি করা হয়। কিন্তু তারপরেও চাষিরা বোরো চাষ করেছেন। সামনেই বিধানসভা ভোট রয়েছে। তার আগে সেচের জল নিয়ে চাষিরা বিক্ষোভ দেখালে কী হবে, তা ভেবে প্রশাসনের আধিকারিকরা উদ্বেগে।
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মুকুটমণিপুর জলাধারের জল মূলত বাঁকুড়া জেলার খাতড়া ও বিষ্ণুপুর মহকুমার ব্লকগুলিতে সেচখালের মাধ্যমে পৌঁছয়। খরিফ মরশুমে কংসাবতী প্রকল্পের জলে এ জেলার জয়পুর ব্লকে সবচেয়ে বেশি জমিতে চাষ হয়ে থাকে। সেখানে এবার মুকুটমণিপুরের জলে সাড়ে ১৭ হাজার একর জমিতে রবি ফসল চাষ হয়েছে। এছাড়াও রাইপুর, রানিবাঁধ, সারেঙ্গা, তালডাংরা, বিষ্ণুপুর ব্লক এলাকায় গড়ে আট হাজার একর এলাকায় চাষ হয়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ২৯ হাজার এবং ঝাড়গ্রাম ও হুগলি জেলায় যথাক্রমে প্রায় সাড়ে ছ’ হাজার ও সাড়ে চার হাজার একর জমিতে রবি ফসলের চাষ হয়েছে।
সেচদপ্তর জানিয়েছে, কংসাবতী জলাধার সংলগ্ন বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মাটি রুখাশুখা। ফলে সেচখালের ফাটল বেয়ে জল অপচয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পতিত বা অনাবাদি জমিতেও অনেক জল নষ্ট হয়। জল অপচয় রুখতে চাষিদের সচেতন হতে হবে। জল অপচয়ের কোনো ঘটনা নজরে পড়লেই দ্রুত গ্রাম পঞ্চায়েত, প্রশাসন বা সেচদপ্তরে জানানোর জন্য চাষিদের অনুরোধ করা হচ্ছে।