


সুকান্ত বসু, কলকাতা: লক্ষ্মী সমৃদ্ধির দেবী। তাঁর আরাধনা করলে বাড়িতে বিরাজ করে সুখ‑শান্তি। শ্রীবৃদ্ধি আসে সংসারে। শাস্ত্রজ্ঞদের বক্তব্য, কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনার মাধ্যমে ভক্তের মনোবাঞ্ছনা যেমন পূর্ণ হয়, তেমনই তাঁদের জীবন হয়ে ওঠে দীপ্ত আলোকময়। লক্ষ্মীপুজোর দিন কোজাগরী সন্ধ্যায় দেবীমূর্তির সামনে ব্রত পাঠ করাও জরুরি। তাতে তিনি প্রসন্ন হন।
স্বামী সারদাত্মানন্দ বলেন, ‘লক্ষ্মীপুজোয় প্রতিমা, কলাবউ, সরা, ঘট কিংবা পটের সামনে যে ধান দেওয়া হয়, সেই ধান মাটির হাঁড়িতে ঝুলিয়ে রাখতে হয় ঠাকুরঘরে। তা নিরঞ্জন করতে নেই। প্রতি সন্ধ্যায় সেই হাঁড়ির সামনে মঙ্গলপ্রদীপ ও ধূপ দেওয়া দরকার। এতে লক্ষ্মী স্বয়ং সে বাড়িতে বিরাজ করেন। বাড়িতে মোটা ভাত-কাপড়ের অভাব হয় না। মঙ্গলপ্রদীপ দেখানোর অর্থ, লক্ষ্মী হলেন আলোর দেবতা, সে কারণেই তাঁকে দীপ বা বাতি দেখানো দরকার। এতে তিনি সদয় হন।’ পঞ্জিকাবিদ অচিন্ত্য ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা স্বয়ং মর্ত্যে আসেন। সে কারণে এদিন বাড়ি আলো দিয়ে সাজাতে হয়। পুজোর সময় প্রতিমার কাছে জ্বালাতে হয় ঘিয়ের প্রদীপ। এই রীতি মানলে বাড়িতে কোনোদিন অভাব‑অনটন ঢুকতে পারে না।’ পূজারী নিতাই কিশোর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘লক্ষ্মীপুজোয় ফল ছাড়াও নাড়ু, খই, বাতাসা, মুড়কি, মিষ্টি, ধান, পান, কড়ি, হলুদ, হরতকি, স্বর্ণমুদ্রা লাগে। এছাড়া দেবীমূর্তির সামনে আলপনা দিতে হয়। লক্ষ্মীর পায়ে নিবেদন করা হয় পদ্মফুল। কোথাও খিচুড়ি, ভাজা, আলুর দম, লাবড়া, চাটনি, পায়েস, লুচি, সুজি প্রভৃতি দেওয়া হয়। এছাড়াও কোথাও কোথাও জোড়া ইলিশ দেওয়ার প্রথা রয়েছে। পুজোর দিন রাতে যে ঘরে দেবীর আরাধনা হয় সে ঘর অন্ধকার রাখতে নেই। সারারাত বাতি জ্বালিয়ে রাখতে হয়। নিয়মনিষ্ঠ হয়ে আচার ও প্রথা মেনে পুজো করলে সে বাড়িতে তিনি সর্বদা বিরাজ করেন।’
স্বামী পূর্ণানন্দ জানান, প্রথা অনুসারে নিয়মকানুন মেনে বাড়ির নির্দিষ্ট স্থানে লক্ষ্মীপ্রতিমা রাখা জরুরি। তাতে সেই বাড়ির শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। যেহেতু লক্ষ্মী ধন ও সমৃদ্ধির প্রতীক তাই বাস্তু মেনে দেবীমূর্তিকে ঘরের উত্তর‑পূর্ব কোণে স্থাপন করা দরকার। এই দিক সম্পদ ও ইতিবাচক শক্তির কেন্দ্র। সে কারণে দিক নির্ণয়ের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি।