


সংবাদদাতা, রানাঘাট: শারদ উৎসব শুরুর আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। ধনধান্যের দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় বাংলার অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য হল লক্ষ্মীসরা। বহু বছর ধরে এই ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীসরা তৈরি করে আসছেন তাহেরপুরের মৃৎশিল্পীরা। দুর্গাপুজোর আগে থেকেই তাহেরপুরে মৃৎশিল্পীদের ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় ব্যস্ততা। রাত জেগে মাটি দিয়ে সরা তৈরির কাজ চলে। এরপর তা শুকিয়ে পোড়ানোর পর তুলির নিঁখুত টানে দেবীর ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। তাহেরপুরের শিল্পীদের তৈরি সরায় ফুটিয়ে তোলা হয় মা লক্ষ্মী, লক্ষ্মী-নারায়ণ, রাধা-কৃষ্ণ সহ বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীর চিত্র। কোজগরী লক্ষ্মীপুজোয় এই সরার চাহিদা দ্বিগুণ হয়। তাহেরপুরের লক্ষ্মীর সরার খ্যাতি কেবল জেলার নয়, সারা রাজ্যে রয়েছে।
তবে চাহিদা থাকলেও খুব একটা লাভ করতে পারবেন না বলে জানান শিল্পীরা। বর্তমান বাজারে মাটি থেকে জ্বালানি কাঠ, কয়লা ও রংয়ের দাম আকাশ ছোঁয়া। সরা তৈরির মূল উপাদান হল আঠালো মাটি। তার দাম এক লাফে অনেকটা বেড়েছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রং, তুলি, বার্নিশ এবং সরা পোড়ানোর জ্বালানির দাম। উৎপাদন খরচ বাড়লেও সরার পাইকারি বা খুচরো বিক্রির দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। বাজারে সাধারণ ক্রেতারা সরা কেনার ক্ষেত্রে দরদাম করছেন, তেমনি পাইকেররাও বেশি দাম দিতে চাইছেন না। ফলে পরিশ্রম ও খরচের তুলনায় লাভের অঙ্ক খুবই কম।
এখানকার প্রবীণ শিল্পী মৌমিতা পাল বলেন, মাসখানেক ধরে দিনরাত এক করে কাজ করতে হয়। তুলির সূক্ষ্ম টানে ফুটিয়ে তুলতে হয় এক একটি প্রতিমার মুখ। ফলে পরিশ্রম অনুযায়ী দাম না মেলায় সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে আমরা আজও সরা তৈরি করছি। কিন্তু, নতুন প্রজন্ম খুব একটা আগ্রহ দেখায় না। তবে এই শিল্প কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রতি বছর লক্ষ্মীদেবীর কৃপায় ঘর আলো হলেও তাহেরপুরের সরা শিল্পীদের জীবনে কবে আলো ফুটবে তা জানা নেই তাঁদের। নিজস্ব চিত্র