


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল জমানায় পুলিশকর্মীদের পদক প্রাপ্তি নিয়ে এবার অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু করল লালবাজার। এক্ষেত্রে বড়োসড়ো দুর্নীতি হয়েছে বলে তথ্য এসেছে লালবাজারের হাতে। কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার প্রাক্তন অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাছাই করে দেওয়া পুলিশকর্মীরাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার বিভিন্ন পদক পেয়েছেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁদের সিংহভাগই পুলিশের তদানীন্তন ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য ছিলেন। সিপির পাঠানো সুপারিশ কেটে দিয়ে নিজের পছন্দের পুলিশকর্মীদের নাম শান্তনুই নবান্নে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কাদের কাদের নাম বাদ দিয়েছিলেন প্রাক্তন এই অফিসার, তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হচ্ছে বলে খবর।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় সরকারের পদক ছাড়াও রাজ্য আলাদা করে পদক দিতে শুরু করে পুলিশকর্মীদের। এর মধ্যে রয়েছে নিষ্ঠা, প্রশংসা, শৌর্য ও সেবা পদক। এই পদক কোন কোন পুলিশকর্মী পাওয়ার যোগ্য, তা ঠিক করতে কলকাতা পুলিশের নগরপালের নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। তারপর সিপি নামের তালিকা পাঠান নবান্নে। রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে ডিজি এই তালিকা পাঠিয়ে থাকেন। লালবাজার সূত্রে খবর, তৃণমূল আমলে কলকাতা পুলিশের কোন কোন পুলিশকর্মী পদক পাবেন, তা ঠিক করতেন মমতা ঘনিষ্ঠ অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। আর সেখানে কর্মদক্ষতা নয়, তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং ওয়েলফেয়ারকে প্রয়োজনীয় ‘সাহায্য’ করেন কি না, এটাই ছিল পদক পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি। কারা
পদক পাবেন, তার তালিকা তিনি সিপির কাছে পাঠিয়ে দিতেন। সেই তালিকা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন পেয়ে যেত। কারণ, পূর্বতন সরকারের আমলে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই অফিসারকে সিপি থেকে শুরু করে সমস্ত আইপিএস অত্যন্ত সমঝে চলতেন বলেই খবর। পুলিশকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, শুধুমাত্র ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য হওয়ার কারণেই একাধিক পুলিশকর্মীকে পদক পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন শান্তনুবাবু। অথচ চাকরি জীবনে তাঁদের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব নেই। বরং তাঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। লালবাজারের কর্তারা জানতে পারছেন, এক-দু’জন সিপি যোগ্যতার নিরিখে পুলিশকর্মীদের তালিকা নবান্নে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে শান্তনুবাবুর পাঠানো নামের তালিকা বাদ পড়ে। অভিযোগ, নবান্ন থেকে ফাইল বার করে এনে সেই তালিকায় থাকা পুলিশকর্মীদের নাম হোয়াইটনার দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। তারপর নিজের পছন্দের পুলিশকর্মীকে পদক পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন শান্তনু। ২০২৬-২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর ধরে এই কারবার চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পালাবদলের পর এই নিয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসায় অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। সিপির পাঠানো তালিকা থেকে কাদের নাম বাদ গিয়েছিল এবং শান্তনু ঘনিষ্ঠ কারা কারা মেডেল পেয়েছেন, সেই তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে বলে খবর।