


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ১৯৭৭ সাল থেকে আলিপুরদুয়ারে বামফ্রন্টের আসন সমঝোতার ঐতিহ্য এবার কি ভাঙতে চলেছে? ফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএম সূত্রে এমনটাই খবর। আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসনের মধ্যে সিপিএম ফালাকাটা, শরিক আরএসপি মাদারিহাট, কুমারগ্রাম, কালচিনি ও আলিপুরদুয়ার এই চারটি আসনে প্রার্থী দেয়। ১৯৭৭ সাল থেকে জেলায় ফ্রন্টের এই আসন সমঝোতা চলে আসছে। কিন্তু এবার জেলায় ফ্রন্টের এই আসন সমঝোতার রেওয়াজ ভাঙতে চলেছে।
সোমবার ইতিমধ্যেই ফালাকাটায় সিপিএম প্রার্থী হিসেবে কমলকিশোর রায়ের নাম ঘোষণা হয়েছে। কুমারগ্রাম ও মাদারিহাটে আরএসপি প্রার্থী হিসেবে যথাক্রমে কিশোর মিনজ ও সুভাষ লোহারের নাম ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু আলিপুরদুয়ার ও কালচিনি এই দুই আসনে ফ্রন্টের তরফে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি। সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার আলিপুরদুয়ার আসনটি সিপিএম পেতে চলেছে। আলিপুরদুয়ার আসনে সিপিএমের সম্ভাব্য প্রার্থী শ্যামল রায়। তিনি দলের আলিপুরদুয়ার জংশন এরিয়া কমিটির সম্পাদক।
অন্যদিকে, কালচিনি আসনটি এবার ফ্রন্টের জোটসঙ্গী আইএসএফকে ছাড়া হচ্ছে। তবে সেখানে প্রার্থী কে তা জানা যায়নি। সিপিএমের আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক কিশোর দাস বলেন, যতদূর জানি এবার জেলায় ফ্রন্টের আসন সমঝোতার অনুপাত ২:২:১ হওয়ার কথা। সোমবার ফালাকাটা, মাদারিহাট ও কুমারগ্রাম আসনে ফ্রন্টের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে আলিপুরদুয়ার ও কালচিনি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হবে।
অন্যদিকে, জেলায় শরিক আরএসপির সঙ্গে সিপিএমের আদায় কাঁচকলা সম্পর্ক। যদিও এবার এখনও পর্যন্ত জেলায় বামেদের কোনো শরিকী কোন্দল দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এর পিছনে জেলায় বামেদের ক্রমাগত রক্তক্ষরণ কারণ হতে পারে। সিপিএমের তুলনায় আরএসপি’র রক্তক্ষরণ জেলায় বেশি হয়েছে। ফলে ১৯৭৭ সাল থেকে চলে আসা জেলায় ফ্রন্টের আসন সমঝোতার ঐতিহ্য ভাঙার বিষয়টি আরএসপিকে এবছর মানতেই হচ্ছে। যদিও আরএসপি’র জেলা সম্পাদক সুব্রত রায় বলেন, আলিপুরদুয়ার ও কালচিনি এখনও দুই আসনে ফ্রন্টের প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি। ফলে জেলায় ফ্রন্টের আসন সমঝোতার ঐতিহ্য ভাঙছেই এখনও তা বলার সময় আসেনি।