


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভায় আবার তৃণমূলের দলনেতা হতে চলেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়? শনিবারই স্পষ্ট হয়েছে যে, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্ত অনুগত কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের সাংসদ। তৃণমূলের অন্যতম বিক্ষুব্ধ নেত্রী শতাব্দী রায়ের সঙ্গে এদিন দিল্লি আসেন সুদীপবাবু। তারপরই দু’জনে সোজা চলে যান ৯, মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে। সেখানে দীর্ঘ বৈঠক চলে। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও সুদীপবাবুর আলাদা সাক্ষাৎ হয়েছে। যদিও বিদ্রোহীদের চিঠিতে তিনি স্বাক্ষর করেছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত।
আজ, রবিবার রাতে ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির সরকারি বাসভবনে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদের বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর হবে নৈশভোজ। সোমবার বিদ্রোহীরা লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। ইতিপূর্বে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদদের মধ্যে ১৯ জন বিরোধী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। সেই সংখ্যা শনিবার বেড়ে দাঁড়াল ২০। এদিন ‘বর্তমান’কে একান্তে সুদীপবাবু বলেন, ‘দিল্লিতে আসার আগে শুভেন্দুর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আজ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে প্রথমে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি, তারপর সেখান থেকে লোধি রোডে অটল উর্জা ভবনে অমিত শাহের সঙ্গে ৭০ মিনিট বৈঠক করেছি। তবে কোনো চিঠিতে সই করিনি। চিঠি চোখেও দেখিনি। আমি এই নতুন গ্রুপে আছি। রবিবার এবং সোমবার ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক আছে। রবিবার শুভেন্দুর সঙ্গে সকলের নৈশভোজ। আমরা তৃণমূল ব্লক হিসাবেই লোকসভায় বসব। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠছে না।’
সুদীপবাবুকে সরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা করেছিলেন মমতা। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এবং চিটফান্ড মামলার জুজু দেখিয়েই শতাব্দীর মাধ্যমে সুদীপবাবুকে বিদ্রোহী শিবিরে টানা হয়েছে বলে ধারণা। দলত্যাগ আইনের আওতা থেকে দূরে থাকার মতো স্বস্তিকর সংখ্যাও ছিল না কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের কাছে। কারণ আজ দিল্লিতে বিক্ষুব্ধদের বৈঠকে দেব থাকবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। এদিন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বারবার দলের ক্ষতি করেছেন সুদীপবাবু। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝুন।’ আর রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়ের মন্তব্য, ‘সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতি বোঝেন না। শুধু আখের গোছান।’