


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সাধারণ টিকিট তো আছেই। অনলাইনে রেলের তৎকাল এবং প্রিমিয়াম তৎকাল টিকিট বুকিংয়েও কি এবার বড়সড় দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে? কারণ বুকিং শুরুর প্রথম তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট। সাধারণ রেল যাত্রীদের থেকে লাগাতার এমন অভিযোগ পেয়ে অবশেষে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছে রেলমন্ত্রকও। আইআরসিটিসির প্রায় আড়াই কোটি ‘সন্দেহজনক’ ইউজার আইডিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, দুর্নীতি সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ যাতে চেপে না বসে, তার জন্য ‘আধার দাওয়াই’ ঘোষণা করল রেল। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করলেন, খুব শিগগিরই তৎকালে শুরু হচ্ছে আধার অথেন্টিকেশন। তারপর ‘প্রকৃত গ্রাহকদের’ টিকিট পেতে আর অসুবিধা হবে না।
রেলের সাধারণ বুকিং শুরু হয় সকাল ৮টায়। আর তৎকাল টিকিট বুকিং সকাল ১০টায়। তা শুরুর আগে থেকেই টিকিট কাটার তোড়জোড় করতে থাকেন যাত্রীরা। টিকিট ‘অ্যাভেলেবল’ আছে কি না, তা দেখতে থাকেন। রেলযাত্রীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, ‘বুকিং উইন্ডো’ খোলার কার্যত পরমুহূর্তেই অধিকাংশ সময় ওয়েবসাইট ‘হ্যাং’ হয়ে যায়। শত চেষ্টাতেও লগ ইন করা যায় না। অথবা লগ ইন করা গেলেও টিকিট বুকিং করতে গেলে ক্রমাগত ‘এরর’ মেসেজ আসতে থাকে। মিনিট চার-পাঁচেক পর ফের কাজ করতে শুরু করে দেয় ওয়েবসাইট। কিন্তু ততক্ষণে দেখা যায়, যাবতীয় ‘অ্যাভেলেবল’ টিকিট শেষ। প্রায় সব ক্ষেত্রেই ওয়েটিং লিস্ট। অর্থাৎ, পাঁচ মিনিট আগেও যেখানে পর্যাপ্ত টিকিট ছিল, মুহূর্তে তার সমস্ত বুকিং হয়ে গিয়েছে! কোন সমীকরণে এহেন ‘মির্যাকল’ সম্ভব, সেটিই বুঝতে পারছেন না রেলযাত্রীরা। আর এই প্রেক্ষিতে উঠে আসছে সম্ভাব্য দুর্নীতির তত্ত্ব! রেল যেভাবে প্রায় আড়াই কোটি ‘সন্দেহজনক’ ইউজার আইডি নিষ্ক্রিয় করেছে, তাতেও ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির ইঙ্গিতই ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইছে রেল। তারা দাবি করছে, আইআরসিটিসি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধারের ই-ভেরিফিকেশন করতে হবে। তাহলেই আর সমস্যা নেই। এখন তৎকালে টিকিট বুক করতে গেলে প্রথম ১০ মিনিট সেই গ্রাহকদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যাঁদের অ্যাকাউন্ট ই-ভেরিফাই করা আছে। কিন্তু আইআরসিটিসির ১ কোটি ৩০ লক্ষ গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ১২ লক্ষের অ্যাকাউন্টে আধার সংযোগ রয়েছে। রেলমন্ত্রক চাইছে, সব ক্ষেত্রেই আধার সংযোগ কার্যকর করতে। তাই প্রথম ধাপে তৎকালে, আর তারপর দূরপাল্লার টিকিট কাটতে গেলেই আবশ্যিক করে দেওয়া হবে আধার অথেন্টিকেশন। প্রশ্ন হল, তাহলে এতদিন ‘সন্দেহভাজন’ গ্রাহকদের লাগাতার যে টিকিট দেওয়া হয়েছে, সেটাই কি ঘুরিয়ে স্বীকার করে নিচ্ছে রেল?