


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়দিল্লি: এলপিজি বন্টনে পুলিশি প্রহরা রাখুন। রাজ্যগুলিকে সতর্কবার্তা কেন্দ্রের। দেশজুড়ে এলপিজি সংকট নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। মানুষের উদ্বেগ ও শংকার সুযোগ নিয়ে রাজ্যে রাজ্যে এলপিজি বুকিং অফিস, ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার বা রান্নার গ্যাস সংস্থার অফিসে
কোনো বিক্ষোভ, ভাঙচুর বা ডেলিভারির গাড়িতে যাতে লুটপাট না হয়, সেই ব্যাপারে আগাম সতর্কতা নিতে চাইছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আজ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং কন্ট্রোল লাইন চালু করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বলা হয়েছে, রাজ্যে যেখানে যেখানে এলপিজি প্ল্যান্ট, ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার, বুকিং আউটলেট রয়েছে, সেখানে কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হোক। পাশাপাশি, এলপিজি নিয়ে যাওয়ার গাড়িগুলিতেও প্রহরা দেওয়া হোক। এমনকি ডেলিভারি ম্যানকেও যাতে হেনস্তা না করা হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে। এদিন রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব, ডিজি এবং অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিদিন সাপ্লাই চেনের উপর নজর রাখার কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন।
সুযোগের অসদ্ব্যবহার করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচার করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। সাফ জানানো হয়েছে, এলপিজি সংক্রান্ত ফেক নিউজ ছড়ালেই কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুয়ো প্রচার রুখতে সাইবার অপরাধ বিভাগকে সক্রিয় করা হচ্ছে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বৃহস্পতিবার বারংবার বলেন, রাজ্য সরকারগুলির ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তারা যেন কালাবাজারি, মজুতদারি রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। এলপিজি বন্টনে কোনো
দুর্নীতি বা অনিয়ম যাতে না হয়, তাও দেখতে হবে।
এতদিন পর্যন্ত দেশে রান্নার গ্যাস পর্যাপ্ত আছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্র। কিন্তু যুগ্মসচিব এদিন জানান যে, এলপিজি নিয়ে সংকট রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আউটলেট শূন্য হয়ে হয়নি। সরকার চেষ্টা করছে সমস্যা সামলাতে। বারংবার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এদিন কৌশলে রাজ্যের উপর দায় চাপানো শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যগুলি পালটা জানিয়েছে, সাপ্লাই যদি কমে যায়, তাহলে রাজ্য কী করবে! কেন্দ্রের হাতে এলপিজি আমদানির বিকল্প কী কী পথ আছে, তা আগে ঠিক করুক মোদি সরকার।