


সেই কবে রাজ আমল শেষ হয়েছে। কিন্তু কোচবিহার শহরের প্রতিটি প্রান্তেই ছড়িয়ে রয়েছে রাজআমলের স্থাপত্য। লাল রঙের ওই নির্দশনগুলি কোচবিহারের আভিজাত্যকে আজও ধরে রেখেছে। কোচবিহারের মহারাজারা কতটা পরিকল্পনা করে এই শহরটি গড়ে তুলেছিলেন, তা ওই সমস্ত স্থাপত্যের পাশাপাশি শহরের বড় বড় দিঘিগুলি দেখলেই বোঝা যায়। তার মধ্যে অন্যতম হল সাগরদিঘি। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই সাগরদিঘিকে ‘কোচবিহারের ফুসফুস’ বলে মনে করা হয়। ১৮০৭ সালে মূলত পানীয় জলের প্রয়োজন মেটাতেই মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণ এই দিঘিটি খনন করিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৮৬৭ সালে আরও বড় ও গভীর করে সংস্কার করা হয়। ১৮৭৪ সাল নাগাদ এই দিঘি সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছিল বলে জানা যায়। সাগরদিঘির চারপাশে মাটি দিয়ে উঁচু বাঁধ ছিল। তার চারপাশে সুড়কির রাস্তা। যা শহরের সৌন্দর্যকে রাজআমলেই অনেকটা বৃদ্ধি করেছিল। এই রাস্তার চারপাশেই রয়েছে একাধিক সরকারি অফিস, জেলা প্রশাসনিক ভবন। এখান থেকে জেলার প্রধান প্রশাসনিক কাজগুলি পরিচালনা করা হয়। সাগরদিঘি মানেই চোখের আরাম। প্রাণে সতেজ হাওয়ার সঞ্চার। যুগ যুগ ধরে নয়নাভিরাম সাগরদিঘির সৌন্দর্য দেখে পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষ মোহিত হয়েছেন। একসময় পরিযায়ী পাখির ভিড় জমত দিঘির জলে। এখন শহুরে কোলাহল ও চোখ ঝলসানো আলোর দাপটে তা কিছুটা কমে গিয়েছে। তবে জীববৈচিত্রের সম্ভার রয়েছে এখনও। কচ্ছপ, মাছ থেকে দিঘির পাড়ের সবুজ ঝোপের আড়ালে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী। সম্প্রতি সৌন্দর্যায়নের ফলে সাগরদিঘির আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চারপাশের রেলিং তুলে দিয়ে নতুন করে ঘাট বাঁধানো হয়েছে। স্টেজঘাট তৈরি হচ্ছে। কোবাল্ট পাথরের ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে পথচারীদের পাশাপাশি প্রাতর্ভ্রমণ ও সান্ধ্যভ্রমণকারীরা নির্বিঘ্নে হেঁটে যেতে পারেন। তার পাশে লাগানো হয়েছে বোলার্ড। সব মিলিয়ে সাগরদিঘির পারে সকাল বা সন্ধ্যা কাটানো এক অনন্য অভিজ্ঞতা।