


সংবাদদাতা, বজবজ: বাটা মোড় থেকে শ্যামপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ বজবজ ট্রাঙ্ক রোডের উভয় দিক চওড়া করতে দখলদার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহেশতলা পুরসভা।
রাস্তা চওড়া করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত নিকাশি ব্যবস্থারও সংস্কার হবে। কোথাও কোথাও নতুন করে নিকাশি নালা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই সব মিলিয়ে তিনশোর কাছাকাছি সরকারি প্লট কব্জা করে রাখা দখলদারকে নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। সেখানে চলছে বিভিন্ন রকমের দোকান। মাইকিং করছে পুরসভা। যাতে দখলদাররা তাঁদের নির্মাণ নিজেরাই ভেঙে সরিয়ে নিয়ে যান। ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। যা শেষ হবে আগামী সপ্তাহে। নোটিস হাতে পাওয়ার পর অনেকেই পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু পুর কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়েছে, সরকারি জায়গা এতদিন দখল করে রাখায় রাস্তা ও নিকাশি নালা সংস্কার করা যাচ্ছে না। ফলে বর্ষার সময় জলে ভেসে যাচ্ছে বাটা ও পুরভবন সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। দখলদারদের এবার সরে যেতে হবেই। মহেশতলা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দখলদারদের সরিয়ে নেওয়ার যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তা পেরিয়ে যাওয়ার পর কেউ না সরলে নির্মাণ ভেঙে দেবে পুরসভা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকবছর ধরে মহেশতলা পুরসভা বাটামোড় থেকে শ্যামপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বেশি রাস্তা চওড়া করার জন্য পূর্তদপ্তরের কাছে তদ্বির করে আসছিল পুরসভা। পূর্তদপ্তরের ইচ্ছে ছিল, বাটা থেকে পুজালির চড়িয়াল পর্যন্ত বজবজ ট্রাঙ্ক রোডের পুরোটাই চওড়া তথা চার লেনের হোক। কারণ এই রাস্তা দিয়ে অগুনতি ছোটবড় যান চলাচল করে। কিন্তু রাস্তার উভয় দিকে দখল এত বেশি, তা সরানোর দায়িত্ব কে নেবে? সম্প্রতি পূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে বজবজ ট্রাঙ্ক রোড চওড়া করা নিয়ে এক বৈঠক হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট পুরসভার প্রতিনিধি ছাড়াও সাংসদ প্রতিনিধি এবং বাস্তুকাররা হাজির ছিলেন। দখলদার সরানোর প্রসঙ্গ উঠতেই মহেশতলার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পুরসভা পূর্তদপ্তরকে সহযোগিতা করবে। সেই কারণে শুধুমাত্র মহেশতলা পুর এলাকার ভিতরের অংশ বাটা থেকে শ্যামপুর বাজার পর্যন্ত রাস্তা চওড়া হবে। সেই হিসেবে উভয় দিকে সাত সাত করে মোট ১৪ মিটার চার লেনের হবে। মাঝে গার্ড থাকবে। এছাড়াও ফুটপাত এবং নিকাশি নালা তৈরি হবে।