


উজির আলি, চাঁচল: দীর্ঘদিন তৃণমূলে ছিলেন। সেই মৌসম বেনজির নুর কংগ্রেসে ফিরে মালতীপুরে এবার প্রার্থী তৃণমূল জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সির বিরুদ্ধে।
তাই মালতীপুরে এবার লড়াই দুই হেভিওয়েটের।
ভোটের ঠিক ১৮ দিন আগে শনিবার রতুয়ার সমর মুখোপাধ্যায় ও মালতীপুরের প্রার্থী রহিম বক্সির সমর্থনে মালতীপুরে সভা করতে আসেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রার্থী মতিবুর রহমানও। তাঁকে ছোট ভাই বলে সম্বোধন করেন মমতা। বলেন, কথা কম, কাজ বেশি করে। এই ধরনের নেতাই দলের সম্পদ।
সমর মুখোপাধ্যায় প্রসঙ্গে আবেগঘন মন্তব্য শোনা যায় মমতার কণ্ঠে। ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক শোকের মধ্যেও দলের জন্য সমরের নিরলস পরিশ্রমের কথা তুলে ধরে বলেন, এই মানুষটাকে টিকিট না দিয়ে কি পারা যায়? স্ত্রী, সন্তানকে হারানোর পরেও এই বয়সে দলের হয়ে আপ্রাণ কাজ করে চলেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুখ হিসেবে রহিমকে তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। জেলার রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, রহিম লড়াই করে যাচ্ছে। সবাই ওর পাশে থাকুন, উন্নয়ন আরও এগবে।
তবে, মৌসমের নাম না করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। বলেন, আমি রাজ্যসভায় যাওয়ার সুযোগ পায়নি, ওকে পাঠিয়েছিলাম। উত্তর মালদহে লোকসভায় প্রার্থীও করেছিলাম। একটা মা যেমন সন্তানকে আগলে রাখে, তেমনই রেখেছিলাম। ভোটের আগে অন্য দলে গিয়েছে। ভালো থাক।
এরপরেই মমতা মানুষের পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগ তোলেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এসআইআরের ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যায় কংগ্রেস কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বলেন, তৃণমূলের বুথস্তরের কর্মীরাই মানুষের পাশে থেকেছেন।
মৌসমের কথায়, আমাকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু জেলার জন্য কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। জেলা সভাপতি থাকাকালীন গত বিধানসভা ভোটে ৮টি আসন উপহার দিয়েছিলাম তৃণমূলকে। তবে, এবার শূন্য পাবে। আমার পরিবার কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। তাই ঘরেই ফিরে এসেছি।