


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার অনুষ্ঠানস্থলের গোড়ায় মাইক বাজিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা বানচাল করার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। গেরুয়া শিবিরের এই নোংরামির প্রতিবাদে ভবানীপুরের মানুষকে জোড়াফুলে ভোট দিয়ে ‘বদলা’ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার উত্তরপাড়ার সভার পর দুটি পদযাত্রা এবং উড়িয়াপড়ার নির্বাচনী সভার সেরে চক্রবেড়িয়ায় পৌঁছন মমতা। ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে তাঁর কথা শুনতে হাজারে হাজারে লোক তখন ভিড় জমিয়েছেন সভাস্থলে। মঞ্চে রয়েছেন সুব্রত বক্সির মতো বর্ষীয়ান নেতা। ডাঃ রাজেন্দ্র রোড এবং জাস্টিস দ্বারকানাথ রোডের সংযোগস্থলের সভা থেকে কিছুক্ষণ পরে চক্রবেড়িয়ার সভায় পৌঁছন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও। সেই সময় মমতা নিজের কথা বলতে শুরু করলেও, থামেনি সভাস্থলের কাছেই লাগানো বিজেপির মাইকের আওয়াজ।
ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, ‘এটা তো হতে পারে না। আমরা তো অনুমতি নিয়ে সভা করছি।’ সেই সময় মমতার সভার সঞ্চালককে ভবানীপুর থানার অফিসারদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, ‘ভবানীপুর থানার যাঁরা আছেন, তাঁরা দয়া করে দেখুন। মাইকটা বারংবার বলা সত্বেও আমাদের দিকে করেছে। আমরা কিন্তু এই অসভ্য আচরণ করি না। ৭০ নম্বর ওয়ার্ড এই অসভ্যতা সহ্য করবে না। বাংলায় এই অসভ্যতা চলবে না।’ সভায় ছিলেন নেতাজির বংশধর চন্দ্র বসু। তাঁর কথায়, ‘আমি যখন বলছিলাম, তখন মাইকের আওয়াজটা এত জোর ছিল না। মমতা বলা শুরু করা মাত্রই আওয়াজটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।’
দলের কর্মীদের মমতা বলেন, ‘ওরা কেন করবে এটা? নির্বাচনের কতগুলো নিয়ম আছে। তাহলে ওরাও যেদিন মিটিং করবে, সেদিন তোমরাও মাইক লাগিয়ে দেবে। তখন পুলিশ খুলতে আসলে, মেয়েদের দিয়ে এফআইআর করাবে। এটা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ।’ তার পরেই মমতাকে দেখা যায় বিষয়টি নিয়ে কাউকে ফোনে অভিযোগ করতে। তার কিছুক্ষণ পরে, মমতা বলেন, ‘সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন। আমরা কমিশনের সমস্ত অনুমতি নিয়েছি। তারপরেও দেখুন কী অবস্থা। অ্যাটিটিউড টা একবার দেখুন। ওরা জোর করে বাংলা দখল করার জন্য এটা করছে। এটা ঠিক নয়। ওরা যদি আমার কেন্দ্রে এমন করে তাহলে বুঝতে পারছেন। পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করার ব্যাপার চলছে। সামনে চিৎকার করছে, যাতে আমি মিটিংটা করতে না পারি। আমি এর বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেব।’ ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘মা ভাই বোনেরা আমাকে ক্ষমা করবেন। কালকে এখানে পদযাত্রা করে দেব। এটা খুব ইনসাল্টিং এবং হিউমিলিয়েটিং। আমি আপনাদেরকে নমস্কার জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি। যদি পারেন আমাকে ভোটটা দেবেন। এর প্রতিবাদে আমাকে ভোটটা দিতে হবে। আমাকে মিটিং পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না।’ তার পরেই তিনি বেহালা চৌরাস্তার সভার জন্য রওনা দেন। বেহালা পূর্ব ও বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের দুই তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে এদিন চৌরাস্তায় জনসভা করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, বেহালার মাটি আমাকে নিরাশ করে না। কোন বড় কাজ করতে গেলে আমি বেহালার মাটি ছুঁয়ে যাই। এবারও তার অন্যথা হয়নি। তাই বেহালার মানুষের কাছে আমার আবেদন, আগামী ২৯ তারিখ জোড়া ফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে বেহালা পূর্বে শুভাশিস চক্রবর্তী ও বেহালা পশ্চিমে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে জয়যুক্ত করুন। এই সভায় এক মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিজেই তাঁর পালস পরীক্ষা করেন মমতা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এসএসকেএম হাসপতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও করেন। অন্যদিকে, বিধাননগরের একাধিক গেস্ট হাউসে বিজেপির তরফে বহিরাগতদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বিধাননগর পূর্ব থানায় অভিযোগ জানাল তৃণমূল।