


নিজস্ব প্রতিনিধি, গড়বেতা: বেআইনিভাবে ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া চিঠি লিখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ভোটে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ভিন রাজ্যে বসবাসকারীদের নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঢোকাতেই এত সংখ্যক ফর্ম ৬ বেআইনিভাবে জমা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অথচ বর্তমানে এর কোনো এক্তিয়ারই নেই পশ্চিমবঙ্গের সিইও দপ্তরের। কারণ, এখন বিচারাধীন তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাঁদের করা আবেদন যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ট্রাইবুনালের উপর।
সোমবার একসঙ্গে ৩০ হাজার ফর্ম ৬ (নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবহৃত হয়) জমা পড়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিইও দপ্তরে রাখা ফর্ম ৬ ভরতি বাক্সের ভিডিয়ো সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। সন্ধ্যায় সিইও দপ্তরে গিয়ে এর বিরুদ্ধে অভিযোগও জানিয়ে আসেন অভিষেক। মঙ্গলবার সকালেই চন্দ্রকোনার নির্বাচনি জনসভা থেকে নির্বাচন কমিশনের এহেন ভূমিকার তীব্র নিন্দা শোনা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। ওইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সভায় আসার আগেই জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে এসেছি। মোদি-শাহের ইশারায় এসব কাজ করছে কমিশন। চিঠি দিয়েছি মানুষের স্বার্থে। কিন্তু মনে রাখবেন,
ওদের (কমিশনের) দু-কান কাটা। এক কান কাটা হলে তাও মানুষ শুনতে পায়। ওরা কিছুই শুনতে পায় কি না জানি না।’
বাইরের থেকে ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে বাংলার ভোট লুট করার আশঙ্কাও এদিন প্রকাশ করেছেন মমতা। এই প্রসঙ্গে চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘ঠিক একই কায়দায় বিহার, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতেও নির্বাচনের আগে ভুয়ো ভোটার ঢোকানো হয়েছিল।’
বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ তুলে চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর ফলে বহু মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন
এবং অনেকেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন। এর ফলে ইতিমধ্যে দুশোর বেশি মানুষের মৃত্যুও হয়েছে! ব্যাপারটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কমিশনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন হচ্ছে।’