


বাপ্পা রায়, মানবাজার: রাজবাড়ির ২৫০ বছরের বেশি রথযাত্রায় মাতে পুরুলিয়ার মানবাজারবাসী। এনিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সেখানকার মানুষজনের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। এলাকার মানুষজন রথের দিনটির জন্য তাকিয়ে রয়েছেন। জানা গিয়েছে, মানবাজার পাথরমহড়ার রাজবাড়ির রথ ২৫০ বছরের বেশি পুরনো। প্রতিবছর পাথরমহড়ার রাজবাড়ির গড় থেকে রথযাত্রা বের হয়। শহরের পথে সেই রথ পৌঁছয় মানবাজার হাটতলার মাসির বাড়ি। রথে চেপে জগন্নাথদেব, বলরাম, সুভদ্রা হাটতলার মাসির বাড়ি যান। ন’দিন পর আবার ফিরে আসেন মানবাজারের পাথরমহড়ায়। রথের দিন সেখান থেকে হাটতলা পর্যন্ত লাইন দিয়ে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রাচীন রথ যাত্রার ঐতিহ্য দেখতে মুখিয়ে থাকেন অনেকেই। রথের দড়ি ধরে একবার টান দিতেও উৎসুক থাকেন মানুষজন।
রাজবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, ইংরেজ আমলে রাজবাড়ির সদস্যরা রাজস্থান থেকে পুরুলিয়া আসেন। রাজস্থানের মোহব্বা থেকে পুরুলিয়া থানার বুধপুর গ্রামে প্রথম এসেছিলেন রাজবাড়ির সদস্যরা। তারপর সেখান থেকে মানবাজার হাটতলায় আসেন। তৎকালীন সময়ে ইংরেজরা হাটতলার রাজপ্রাসাদ কামান দিয়ে উড়িয়ে দেয়। এরপর তৎকালীন সময়ে রাজবাড়ির সদস্যরা সেখান থেকে মানবাজারের পাথরমহড়ায় আসেন। সেখানেই তৈরি হয় গড়। তৈরি হয় মন্দির বিগ্রহ মূর্তি।
তখন থেকেই পাথরমহড়া থেকে হাটতলার মাসির বাড়ি পর্যন্ত রথে যান জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রা। রথের দিন সকাল থেকেই পাথরমহড়ার মন্দির চত্বরে উন্মাদনা থাকে চোখে পড়ার মতো। রাজবাড়ির বর্তমান সদস্য থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষের উৎসাহ থাকে। সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে হরিনাম সংকীর্তন হয়। রথের দিন সকালে প্রভু জগন্নাথদেবকে কাঁঠাল সহ বিভিন্ন ফলমূল দিয়ে বাল্যভোগ দেওয়া হয়। এরপর দুপুর ১২টার সময় দেওয়া হয় মহাপ্রসাদ। তারপরেই সেখানে ভক্তদের খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ানো হয়।
এদিন প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি ভক্তকে খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। সমস্ত কার্য সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেলে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রথে চেপে রওনা দেন জগন্নাথদেব। রথ দেখার জন্য স্থানীয় লোকজন সহ আশেপাশের গ্রামগুলি থেকেও মানুষজন মানবাজারে আসেন। এদিন রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিসের নজরদারিও থাকে। মানবাজারের হাটতলা মাসির বাড়ি রথ পৌঁছনোর পর সেখানে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ৯ দিন মাসির বাড়িতে থাকেন। ন’দিন থাকার পর আবার পাথরমহড়ার গড়ে ফিরে আসেন। রাজবাড়ির তরুণ সদস্য পুরুষোত্তম নারায়ণ দেব বলেন, রথের দিন পুরোহিতের কোলে চেপে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা হাটতলায় মাসির বাড়ি যায়। ন’দিন পর আবার ফিরে আসেন। মানবাজারের স্থানীয় মানুষজন জানান, পুরুলিয়া জেলার মধ্যে মানবাজার পাথরমহড়ার রাজবাড়ির রথযাত্রার একটি আলাদা ঐতিহ্য আছে। প্রাচীন রাজবাড়ির এই রথযাত্রার দিকে তাকিয়ে থাকে পুরো জেলাবাসী। দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন রথযাত্রা দেখতে মানবাজার শহরে আসেন। বহু মানুষের সমাগম হয়। ছবি: বাপ্পা রায়