


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিল নির্বাচন কমিশন। তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একসময় এসসি, এসটি ভোটারদের অনেকেই বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল। তারাই এখন গেরুয়া শিবিরের উপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। তাদের দাবি, দুর্দিনে বিজেপি নেতার পাশে নেই।
তৃণমূলের লাগাতার আন্দোলনের জেরে নো-ম্যাপড হয়ে থাকা এসি এবং এসটিদের নামের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাদের বৈধতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু, শুনানিতে অংশ নেওয়া বহু আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গলসি-২ ব্লকের বাসিন্দা ফুলমণি টুডু। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তিনি শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন। বেশ কয়েকটি নথি ও জমা করেন। তারপরও তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষের জন্ম এখানেই। এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। তারপরও ভোটার তালিকায় আমার নামের পাশে ‘ডিলিট’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালনার অকালপৌষ পঞ্চায়েতের সদস্য সপ্তমী মাণ্ডির নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরাই এ দেশের আদি বাসিন্দা। সেটা নির্বাচন কমিশনের জানা উচিত ছিল। তারপরই তারা বিজেপির কথায় অশান্তি পাকানোর জন্যই এসব করেছে। বিজেপি এসসি, এসটিদের পছন্দ করে না, সেটা প্রমাণ হল।
ভোটার তালিকায় নাম নেই খণ্ডঘোষ বিধানসভার অনু বাগদির। তিনি বলেন, আমাদেরও কোনোদিন নথির প্রয়োজন হবে সেটা ভাবতেও পারিনি। বিজেপি নেতারা বলছে ভোটার তালিকা থেকে তারা রোহিঙ্গাদের বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আমরা কিন্তু কেউ রোহিঙ্গা নয়।
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, কয়েক হাজার আদিবাসীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফল নির্বাচনে বিজেপিকে ভুগতেই হবে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথায় কাজ করতে গিয়ে আদিবাসীদের অপমান করেছে। বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, আমরা চাই না কখনই বৈধ কোনো ভোটারের নাম বাদ যাক। বিএলওদের ভুলের জন্যই বহু এসসি, এসটির নাম বাদ গিয়েছে। তফসিলি জাতি উপজাতিদের পাশে আমরা সর্বদাই রয়েছি। তাঁদের কোনো চিন্তার কারণ নেই।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় বহু সংখ্যালঘু ভোটারের নাম বিচারাধীন হয়ে রয়েছে। অথচ তাদের অনেকেই বৈধ ভোটার বলে তৃণমূলের দাবি। শাসক দলের নেতা বাগবুল ইসলাম বলেন, সামান্য নামের বানান ভুলের জন্য অনেক সংখ্যালঘুর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বহু বিচারাধীন রয়েছে। তাদের নাম ও বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিজেপি যদি ভাবে এভাবে তারা ভোটে জিতবে তাহলে ভুল করছে। বাংলার মানুষ সচেতন। ইভিএমে ওদেরকে যোগ্য জবাব দেবে।