


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের ত্রাসের গণ্ডি শুধু সাউথ ক্যালকাটা ল’কলেজেই সীমাবদ্ধ ছিল না! রাজনৈতিক প্রভাব জাহির করে অন্য কলেজেও লালসার জাল ছড়িয়েছিল ‘এমএম’। পুলিসি জেরায় ফের এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছে প্রমিত ও জায়িব। মনোজিতের নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও তদন্তে এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ কলকাতার দু’টি কলেজের নাম পেয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। আর দু’টিই যথেষ্ট নামজাদা। এছাড়াও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রভাব রয়েছে, এমন কলেজে যাতায়াত করত মনোজিৎ। সঙ্গে নিয়ে যেত প্রমিত ও জায়িবকে। তবে ওই কলেজ দু’টিতেই বেশিরভাগ সময় যেত তারা। ইউনিয়নের বৈঠকের নামে ছাত্রীদের সঙ্গে আলাপ জমাত। আর তার মাঝেই ঠিক হয়ে যেত ‘টার্গেট’। পছন্দ হলে সুযোগ বুঝেই আগে প্রপোজ করে দিত এমএম। ঘনিষ্ঠতা বাড়াত। তারপর কোনও একটা অছিলায় ডেকে পাঠাত নিজের কলেজে। ক্লাস শেষের পর পার্টি চলত ইউনিয়ন রুমে। এক্ষেত্রে পূর্ণ মদত ছিল তার মেন্টরের। আর তারপর শুরু হতো ‘খেলা’। সেই ছাত্রীকে বাধ্য করা হতো ঘনিষ্ঠ হতে। মেনে নিলে অসুবিধা নেই, কিন্তু বাধা দিলে? অপেক্ষা করত দাওয়াই। অত্যাচার। যাঁরা বিপদ বুঝে আগেই পালাতে পারতেন, তাঁরা রক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু অনেকেই ‘দাদা’র লালসার শিকার হয়েছে বলে জেরায় দাবি করেছে প্রমিত ও জায়িব।
এই সবই মনোজিৎ জলভাত করে ফেলেছিল বলে অভিযোগ। অন্য কলেজের ছাত্রীদের সঙ্গে কুকীর্তিও ভিডিও করে রাখত সে। লক্ষ্য, ব্ল্যাকমেল। ঠিক যেভাবে কলেজের তরুণীদের সঙ্গে লাগাতার চালিয়ে গিয়েছে ‘এমএম’। সর্বত্রই তার ডানহাত-বাঁহাত ছিল প্রমিত ও জায়িব। কিন্তু একটা মাত্র এফআইআর তার যাবতীয় কুকীর্তি বেআব্রু করে দিয়েছে। শিরোনামে এসেছেন সেই নির্যাতিতা। কারণ, তিনি সাহসটা দেখাতে পেরেছেন। যা এর আগে অন্য কেউ পারেননি। জানা যাচ্ছে, ২৫ জুন রাতে তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছিল, তা রাগে, অপমানে মরিয়া করে দিয়েছিল নির্যাতিতাকে। মনোজিৎ তাকে ধর্ষণ করার পর নির্দেশ দিয়েছিল, ডাকা মাত্রই ‘হাজিরা’ দিতে হবে তাঁকে। ছোট ছোট ট্যুরে যেতে হবে। শুধু মনোজিৎই নয়, যখন বলা হবে, তখনই ঘনিষ্ঠ হতে হবে জায়িব-প্রমিতের সঙ্গেও। এই নির্দেশ না মানলে ইউনিয়নে তাঁর পোস্ট থাকবে না। কেরিয়ারও শেষ।
ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চোরাগোপ্তা একটা বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল—টিকে থাকতে হলে ‘এমএম’-এর কথায় চলতে হবে। ‘দাদা’ যা বলবে, সেটাই করতে হবে। বেচাল হলে পরিণতি ভালো হবে না। এভাবে বহু ছাত্রও তার রোষের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। জেরায় মনোজিৎ নিজেই জানিয়েছে, ঘটনার আগের দিন কলেজেরই এক ছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়েছিল তারা। সেই ছাত্রও টিএমসিপি করে। কিন্তু তার অপরাধ? ছাত্রীদের সঙ্গে ‘দাদা’র লাগামছাড়া কুকীর্তির প্রতিবাদ। মারধরের পর ওই পড়ুয়াকে মনোজিৎ হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ। জানায়, ‘আমার সঙ্গে অনেক মেয়ে আছে। কাউকে দিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করিয়ে দেব।’ এমনকী ‘মেন্টর’কে বলে ভুয়ো ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও মনোজিৎ দিয়েছিল বলে পুলিস সূত্রে খবর। তবে এই বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ছাত্রটি কোনও অভিযোগ করেননি। পুলিসকে তিনি জানিয়েছেন, পরদিনই এমন একটা ঘটনা হয়ে গেল। তাই তিনি আর সময় পাননি। যদিও গণধর্ষণের মামলায় প্রহৃত ছাত্রকে যুক্ত করছে না পুলিস। কারণ, ২৫ জুন ইউনিয়ন রুমে তিনি উপস্থিত ছিলেন না।