


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে স্কুল সার্ভিস কমিশনে (এসএসসি)। এদিকে কমিশনের ৩৫ জন কর্মীর মধ্যে ২৪ জনকে ভোটের ডিউটি দেওয়া হয়েছে বলে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে অভিযোগ জানাল তারা। ফলে, সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা, অর্থাৎ ৩১ আগস্টের মধ্যে নিয়োগ শেষ করা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসএসসি এও জানিয়েছে, তারা একটি স্বশাসিত সংস্থা। সেখানকার কর্মীরা সরাসরি সরকারি কর্মচারী নন। তাই এভাবে কমিশনের কর্মীদের ঢালাও ভোটের ডিউটি দেওয়া ঠিক নয়। সোমবার প্রধান বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে মামলাটির ফের শুনানি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিংয়ের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। পাশাপাশি সোমবার থেকে চলছে নবম-দশম স্তরের শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ এবং ডক্যুমেন্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া। এসব কাজে বিষয় সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ছাড়াও প্রয়োজন প্রচুর কর্মীর। কমিশনের কর্মীদের পাশাপাশি ডেপুটেশনে অন্য দপ্তর থেকে কর্মীদের আনতে হয়। তার মধ্যে স্থায়ী কর্মীদের তুলে নিলে পুরো প্রক্রিয়া যে থমকে যাবে, তা ধরে নেওয়া যায়। সেই আশঙ্কা থেকে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে এসএসসি।
শুধু কাউন্সেলিং এবং ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া নয়, যাঁরা সুপারিশ পেয়েছেন, তাঁদের মেডিকেল টেস্ট এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনও চালাতে হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ এবং পুলিশ সুপারদের এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। কারণ, সেই শংসাপত্র এলেই প্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দিতে পারবে পর্ষদ। তবে, ভোটের ডিউটিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন সময়ে শেষ হওয়া নিয়েও আশঙ্কা রয়ে গিয়েছে। একই আশঙ্কা রয়েছে মেডিকেল টেস্ট নিয়েও।
অন্যদিকে, গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে ভুল শূন্যপদ নিয়ে। বিভিন্ন স্কুলে শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও সেগুলির তালিকা প্রকাশ করেছিল এসএসসি। এবার সেগুলি সংশোধন করে ফের শূন্যপদের তালিকা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পাঠিয়েছে এসএসসিকে। সেগুলিও এদিন প্রকাশ করা হয়েছে এসএসসি’র ওয়েবসাইটে। ফলে, সবমিলিয়ে সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায়।