


সংবাদদাতা, কান্দি: পেশায় ফেরিওয়ালা মামা দুই ছেলের বাবা। আর ভাগ্নি তিন মেয়ের মা। গত তিনদিন হল মামা-ভাগ্নি ফেরার। রবিবার এ নিয়ে সালার থানার কাগ্রামে দুই বাড়ির লোকজনদের মধ্যে হাতাহাতি বেধে যায়। পরে অভিযোগ জানাতে পুলিসের দ্বারস্থ হয় উভয়পক্ষই। ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল এলাকাজুড়ে। সালার থানার পুলিস জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কোনও অভিযোগ না হলেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মামার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার গাজিপুর গ্রামে। পেশায় তিনি একজন ফেরিওয়ালা। কখনও চুল কিনতে ভিনরাজ্যেও যান। প্রায় ১৩ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছে। দুটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। তাদের বয়স ১০ ও সাতবছর। অপরদিকে, ভাগ্নির বাড়ি কাগ্রামের মাঠপাড়ায়। তাঁরও বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১০ বছর আগে। কিন্তু স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনটি ছোট ছোট মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় দু’বছর।
মামার স্ত্রীর এদিন বলেছেন, ‘স্বামী দেড়মাস ধরে ভিনরাজ্যে চুল কেনার জন্য গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কয়েকদিন আগে নিজের বাড়ি না এসে কাগ্রামে যায়। তিনদিন হল ওর ভাগ্নিকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। ওদের মধ্যে দেড়বছর ধরে ভালবাসা রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। মোবাইলের মাধ্যমে ওদের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু এসব আগে জানতে পারিনি। এখন যেভাবেই হোক আমার স্বামীকে ফিরে পেতে চাই।’
এদিকে, এদিন সকালে ভাগ্নির বাড়িতে এসে হাজির হন মামার স্ত্রী, শাশুড়ি, দুই পুত্র সন্তান সহ সেখানকার কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁরা প্রথমে ভাগ্নির বাড়িতে বিষয়টি নিয়ে মীমাংসা করতে চাইছিলেন। কিন্তু ভাগ্নির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও সহানুভুতি পাওয়া যায়নি বলে দাবি। এরপরেই শুরু হয় বচসা। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে দু’পক্ষের ঝামেলা। সেই ঝামেলা গড়ায় হাতাহাতিতে। মহিলারা একে অপরের চুল ধরে টানাটানি শুরু করেন। সমানে চলছিল দু’পক্ষের গালিগালাজ। এমন অবস্থায় স্থানীয়রা সেখানে পৌঁছে ঝামেলা থামান। দু’পক্ষকেই পুলিসের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর এদিন দুপুরে উভয়পক্ষ সালার থানায় হাজির হলেও বিকেল পর্যন্ত কোনও অভিযোগ হয়নি। ভাগ্নির বাবা বলেন, ‘আমি এসব কিছুই জানি না। মেয়ে তিন তিনটি ছোট মেয়েকে আমার ঘাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে গেল। আমি কী করব, সেটাই ভেবে পাচ্ছি না। আমিও চাই ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে আসুক।’