


শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামের করপল্লিতে জমি আন্দোলনের শহিদবেদিতে প্রতিবছর ১০নভেম্বর শ্রদ্ধা জানানো হয়। শুক্রবার বিজেপি নেতা স্বদেশ দাসঅধিকারীর উপস্থিতিতে সেই শহিদ বেদির সংস্কারের কাজ হয়। বেদির চারপাশে স্টিলের রেলিং দেওয়া হয়। একইসঙ্গে শহিদ বেদির বর্ডার অংশে গেরুয়া রংয়ের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। স্বদেশবাবুকেই মেরামতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেইমতো শুক্রবার তাঁর উপস্থিতিতে ওই কাজ সম্পন্ন হল। আগামী ১০নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে করপল্লিতে উপস্থিত হবেন। সেখানে জমি আন্দোলনের শহিদদের উদ্দেশে তিনি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করবেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রত্যেক বছর ১৪মার্চ, ৭জানুয়ারি ও ১০নভেম্বর শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সরকার থেকে তৃণমূলের বিদায়ের পর এবার নন্দীগ্রামে তাদের উদ্যোগে ১০নভেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না। শুক্রবার পর্যন্ত নন্দীগ্রাম থানায় এনিয়ে অনুমতি চেয়ে কোনও চিঠি আসেনি বলেও থানার আইসি অজয়কুমার মিশ্র জানিয়েছেন।
২০০৭সালে ১০নভেম্বর নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক জমি ফিরে পাওয়ার আশায় সূর্যোদয় অভিযানের ডাক দিয়েছিল তৎকালীন শাসক দল সিপিএম। সেদিনের রক্তাক্ত অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। এখনো নিখোঁজ বেশ কয়েকজন। প্রতিবছর এই দিনটিতে নন্দীগ্রাম-১ব্লকের অধীন গোকুলনগর পঞ্চায়েতের করপল্লিতে শহিদ স্মরণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের উদ্যোগে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে এই কর্মসূচি হত। ২০২১ সাল থেকে তৃণমূল ও বিজেপি দুই দল আলাদা করে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে কর্মসূচি নিত। এই কর্মসূচি ঘিরে একটা উত্তেজনার রেশ থাকত। পরস্পরকে লক্ষ্য করে আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণও চলত।
২০২৫ সালে ১০নভেম্বর করপল্লিতে দাঁড়িয়ে তৎকালীন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পরের বছর থেকে তৃণমূল দল এখানে আসবে না। এক বছর আগে শুভেন্দুবাবুর সেই ভবিষ্যৎবাণী সত্যি হতে চলছে। কারণ, এখনো পর্যন্ত নন্দীগ্রামে শহিদ দিবস উদযাপন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো প্রস্তুতি নেই। থানায় আবেদনও জমা পড়েনি। সম্প্রতি উপনির্বাচন মিটেছে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শেখ সুপিয়ান, শেখ সাহাবুদ্দিনের মতো দাপুটে নেতারা এখনো বাড়ির বাইরে। আবার তৃণমূলের আবু তাহের, বাইতুল ইসলামের মতো নেতারা শুভেন্দুবাবুর ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার প্রাক্তন জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শেখ সাসমুল ইসলাম, নন্দীগ্রাম-১পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আব্দুল আলিম আলরাজি জেল খেটে চুপচাপ হয়ে গিয়েছেন। এই অবস্থায় নন্দীগ্রামে শহিদ দিবস কর্মসূচি পালন করার মতো সেভাবে উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
বিজেপি নেতা স্বদেশ দাসঅধিকারী বলেন, ২০২১ সাল থেকে আমাদের শহিদ দিবস পালন করতে হাইকোর্টেও যেতে হয়েছে। প্রতিমুহূর্তে বাধা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন ও তৎকালীন শাসক দল। আজ, তৃণমূল নির্মূল হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামে শহিদ দিবস পালন করার মতো ওদের লোকজন নেই।