


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে কারখানাটি। সেই ঐতিহাসিক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান কেবলসের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিত্যক্ত বহুতল ভবনে আচমকাই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আজ, সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে বহুতল ওই ভবনের একাধিক ফ্লোর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন দুপুর নাগাদ রূপনারায়ণপুরের ওই সুবিশাল বিল্ডিংটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন এলাকাবাসী। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে রূপনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ কর্মীরা অকুস্থলে পৌঁছন। অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি ছিল। রূপনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়ির পাশাপাশি আসে চিত্তরঞ্জন দমকল বাহিনীও। চিত্তরঞ্জন থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে প্রাথমিক কাজ শুরু করলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফলে পরবর্তীকালে আসানসোল থেকেও দমকলের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
জানা গিয়েছে, ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিএসএনএল-এর ভাড়ায় নেওয়া একটি দপ্তর ছিল। যেখানে আগুনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে স্বস্তির বিষয়, কিছুদিন আগেই বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ তাদের অফিসটি এই বিল্ডিং থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছিল।
ঘটনা প্রসঙ্গে হিন্দুস্তান কেবলসের আধিকারিক আর এন ওঝা স্পষ্ট জানান, “ভবনে কোম্পানির নিজস্ব কোনো মূল্যবান সামগ্রী ছিল না। প্রয়োজনীয় ও দামি জিনিসপত্র আগেই নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।”ফলে কোনো বড়সড় আর্থিক ক্ষতি বা মূল দস্তাবেজ নষ্ট হয়নি। তবে বিভিন্ন বিভাগের কাজ পরিচালনার জন্য থাকা কাঠ ও ফাইবারের কেবিন, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সঠিক দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু পুরনো এই সুবিশাল আবাসনটি এমনিতেই নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। আজকের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ফলে ভবনের কাঠামো আরও দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, জনমানবহীন এবং শুনশান এই পরিত্যক্ত ভবনে দিনের পর দিন অসামাজিক ক্রিয়াকলাপ চলত। হামেশাই এখানে অচেনা ছেলেমেয়েদের যাতায়াত ও আড্ডা জমত। প্রাথমিক ধারণা, তাদেরই কারো ফেলে যাওয়া বিড়ি-সিগারেটের টুকরো বা কোনো দুষ্কৃতীর লাগানো আগুন থেকেই এই বিপত্তি ঘটতে পারে। পুলিশ ও দমকল বাহিনী যৌথভাবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে দেখছে।