


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: চা, ঘুগনির দোকানের ঠেক থেকে বাড়ির উঠোন, ভোট ঘোষণা হতেই মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের সর্বত্র পরিবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষে জোর তরজা। নতুন থেকে বয়স্ক ভোটার সকলেই শামিল হচ্ছেন। যুক্তি-তক্কে উঠছে এসআইআর থেকে কেন্দ্রীয় বাজেট, যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে রান্নার গ্যাসের সংকট। তবে এবার ‘আগে রাম পরে বাম’ স্লোগান কার্যত উধাও! গোটা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় ভোটের ময়দান সরগরম।
মাটিগাড়ার উপর দিয়ে বিস্তৃত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। সর্বক্ষণই যানবাহন ছুটছে। এই রাস্তা দিয়ে চলার সময় ভোটের তাপ-উত্তাপ বোঝা সম্ভব নয়। এই সড়কের খাপরাইল মোড় থেকে মাটিগাড়া বাজারের দিকে কিছুটা এগলেই মিলবে ভোটের উত্তাপ। রাস্তার দু’পাশে দোকান। তাতে পদ্মফুলের ঝান্ডায় ছয়লাফ। এরমধ্যেও মাথা দোলাচ্ছে জোড়াফুলের ঝান্ডা, ব্যানার। সোমবার এখানেই চপ, ঘুগনির দোকানে বসে কয়েকজন মাতেন ভোট নিয়ে চর্চায়। মাঝবয়সি টোটো চালক সমীয় ঘোষ বলেন, গোটা বাজার গেরুয়া ঝান্ডায় সেজে উঠলেও ভোটে যে কী হবে বোঝা মুশকিল? সঙ্গে সঙ্গে ঘুগনি খেতে খেতে তুফান দাস বলেন, এখানে পদ্মের প্রতীকে কাঠপুতুল দাঁড়ালেও জিতবেন।
দাদা এতটা সহজ নয়। কমল বর্মন নামে যুব ভোটার বলেন, কেন্দ্রীয় বাজেটে এখানকার জন্য কিছু নেই। নোটবন্দির মতো এসআইআরে হয়রানি করা হয়েছে। ইভিএমে এর জবাব দেবেন বাসিন্দারা। এই সুরেই মাঝ বয়েসি ব্যবসায়ী গৌতম বর্মন বলেন, মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবকদের জন্য যুবসাথী দিয়েছেন দিদি। কাজেই এই কেন্দ্রে এবার জোড়াফুলই ফুটবে। বাংলার ক্ষমতাতেও থাকবেন দিদি। পরিবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষের এমন তরজা শুনে চপ কিনতে আসা নতুন ভোটার গৌড় বর্মন বলেন, এবারই প্রথম ভোট দেব। এজন্য হাওয়া বোঝার চেষ্টা করছি।
শুধু মাটিগাড়া বাজার নয়, চম্পাসারি, শিবমন্দির, পাথরঘাটা, পরিবহণনগর, শিবমন্দির, নকশালবাড়ি চায়ের দোকান, পাড়ার ঠেক, বাড়ির বৈঠকখানা ও উঠোনে এমন বিতর্ক শোনা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি সুশান্ত ঘোষ বলেন, এবার এই কেন্দ্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দেব। দলের প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পরই এখানে প্রচারে ঝড় উঠবে।
যদিও স্থানীয় বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মন বলেন, তৃণমূল গলা ফাটালেও লাভ হবে না। এবারও এখানে পদ্মফুল ফুটবে।
জোড়াফুল ও পদ্মের তুলনায় এখানে সিপিএম ও কংগ্রেসের ঝান্ডা, ব্যানার, দেওয়াল লিখন কিছুটা কম। তবে ‘আগে রাম, পরে বাম’-এই স্লোগান তেমন শোনা যাচ্ছে না। সিপিএমের দার্জিলিং জেলা কমিটির নেতা তথা মহকুমা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার এখানে আমাদের ফলাফল ভালো হবে। বিজেপি ও তৃণমূলকে জমি ছাড়ছি না। দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সভাপতি সুবীন ভৌমিক বলেন, কংগ্রেসও এখানে ময়দানে নেমেছে। বিজেপি প্রার্থী অবশ্য বলেন, এখন মানুষ পদ্মের সঙ্গে। কাজেই ভোট কমার কোনো সম্ভবনা নেই। • শিলিগুড়িতে তৃণমূলের দেওয়াল লিখন। - নিজস্ব চিত্র।