


দেবজিৎ ঘোষ: সের্গিও লোবেরার উচিত মোহন বাগান ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানানো। ম্যাকলারেন নামক আনকাট হিরে দলে থাকলে কোচের চিন্তা কমতে বাধ্য। জেমি ম্যাকলারেন সত্যিই জেম। এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলের সেরা স্ট্রাইকার কে? পাঠক, এক থেকে তিনে শুধুই ম্যাকলারেনকে রাখতে চাই। আইএসএলে ৪ ম্যাচে ১৪ গোল করেছে মোহন বাগান। একা ম্যাকারই লক্ষ্যভেদের সংখ্যা ৭। ওড়িশার বিরুদ্ধে একাই ৪টি গোল করেছে ও। জাত স্ট্রাইকার এমনটাই হয়। ম্যাকলারেন বিশ্বকাপার। তার উপর অজি লিগের সর্বাধিক গোল স্কোরার। ম্যাকা যেন প্রতি ম্যাচেই নিজেকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।
কোথায় এগিয়ে ম্যাকলারেন? নাম্বার নাইন হিসাবে বলকে অ্যাটাক করে অজি স্ট্রাইকার। অর্থাৎ, অহেতুক অপেক্ষা না করে বলের জন্য ঝাঁপায়। বক্সের মধ্যে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ বড় ফ্যাক্টর। ম্যাকলারেন বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের কোনও সুযোগ দিতে নারাজ। ফুটবল ম্যানুয়াল বলে, বড় স্ট্রাইকার বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের প্রেস করে। অর্থাৎ ভুল করতে বাধ্য করে। ম্যাকা সেই কাজটাই করছে। গোলের খিদে মারাত্মক। ওড়িশার বিরুদ্ধে ম্যাচের ৮৮ মিনিটে নিজের চতুর্থ গোলটা করে ম্যাকলারেন। আত্মতুষ্টি ওর অভিধানে নেই। এটা বড় স্ট্রাইকারের গুণ। পাশাপাশি অফ দ্য বল মুভমেন্টও চমৎকার। ফাঁকা জমি ব্যবহার করতে জানে। ডামি রানেও সিদ্ধহস্ত। ফলে ওকে রোখা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। ছ’গজের বক্সে যেন গোলের গন্ধ পায়। ওড়িশার বিরুদ্ধে প্রথম গোলের মুহূর্ত খেয়াল করুন। পেত্রাতোস ব্যাকহিল করার মুহূর্তেই ম্যাকা বুঝেছিল সেন্টার আসতে চলেছে। শুভাশিস হালকা ইনস্যুইং মেশানো বল ভাসাতেই নিখুঁত হেডে জাল কাঁপায় অজি তারকা। অর্থাৎ আগে থাকতে বলের গতিবিধি আন্দাজ করে ঠিক জায়গায় পৌঁছে যাওয়া মোটেও সহজ নয়। বাকিদের চেয়ে এখানেই অনেক এগিয়ে ম্যাকলারেন। পঞ্চাশ-পঞ্চাশ বল থেকেই জাল কাঁপানোর ক্ষমতা রাখে। হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে এমন ফুটবলার সত্যিই গেমচেঞ্জার। বল ফিড করতে পারলে গোলের বন্যা বইতে পারে। আইএসএলে প্রথম চার ম্যাচে আক্রমণের রোলার চালিয়েছেন লোবেরা। শক্তিশালী আপফ্রন্টের সৌজন্যে প্রতিপক্ষ উড়ে গিয়েছে।
পরের ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসি’র বিরুদ্ধে খেলবে মোহন বাগান। কান্তিরাভায় ডিফেন্সকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। মাঝমাঠে ব্লকিংয়ের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। স্প্যানিশ কোচ নিশ্চয়ই সেদিকে নজর দেবেন।